প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এই তৃতীয় ভাষা হিসেবে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মানের মতো যেকোনো একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।
এই পরিকল্পনার কথা বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার অধীনে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন কাঠামোর অংশ হিসেবে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করার পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তৃতীয় ভাষা জানা শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে। নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য সারা দেশে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কারিগরি, প্রযুক্তি, কৃষি বা গবেষণার ক্ষেত্রে দেশ এবং বিদেশে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন