প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে দক্ষিণ লেবাননে দাবানল সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দমকলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ইসরাইলের বোমা হামলা ও ড্রোন হামলার কারণে বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের প্রাকৃতিক পরিবেশকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে ইসরাইল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর দাবানল সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ লেবাননের খিয়ামের বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করার পর আগুন ধরে যায়। দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। নিরাপত্তার কারণে দমকলকর্মীদের সেখান থেকে সরে যেতে হয়।
নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের বেশিরভাগ অভিযানের উদ্দেশ্যই আগুন নেভানো। ইতিমধ্যে বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তবে ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি এলাকা সমূহের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৭ জুন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইলি হামলা থেমে নেই। প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই আগুন ও দাবানলের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে এসব আগুন লাগছে।
দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পোস্ট করা ভিডিও এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট। দাবানলের বিষয়ে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
ফাকিহ আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির পরপরই তারা এসব শুরু করেছে। প্রতিদিন অগ্নিসংযোগকারী বোমা ব্যবহার করছে। ছোট ড্রোন এসে দাহ্য পদার্থ ফেলে যায়। বনাঞ্চলে সাদা ফসফরাসের গোলা ছোড়া হয়। দিনের বেলায় আলোকসৃষ্টিকারী ফ্লেয়ারও ফেলা হয়, যাতে গাছপালায় আগুন ধরে যায়।
দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকার দমকলকর্মী ও বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার কাফারচৌবা এবং জেজিন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী দুটি ঘন বনাঞ্চলে ইসরাইলি গোলাবারুদের কারণে বড় ধরনের দাবানল সৃষ্টি হয়।
কাফারচৌবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের প্রধান সামির হারদান জানান, শুক্রবার বিকেলে একটি ড্রোন বনাঞ্চলে গোলাবারুদ ফেললে আগুন ধরে যায়। শনিবার আগুন নেভানোর পর রোববার আরেকটি ড্রোন সেখানে পুনরায় আগুন লাগায়।
দমকলকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনার আগে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। সেনাবাহিনী সেই অনুরোধ ইসরাইলি বাহিনী ও সংঘাত এড়ানোর সমন্বয়কারী দলের কাছে পাঠায়। তবে আগুন নেভানোর জন্য মাত্র দুটি স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য এলাকায় আগুন জ্বললেও সেখানে যাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন