প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলোয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (ইভা বিচ, হাওয়াই)-এর মরদেহ বহনকারী ট্রান্সফার কেস সরিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা পাঁচ মাসের সামরিক অভিযানে ইরানকে দুর্বল করার যে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি একটি হামলা তা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং বিশ্লেষকেরা বলছেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর এখনও মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর হামলা চালানোর ক্ষমতা বজায় রেখেছে। গত জুনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চের পর এই প্রথম ইরানের সরাসরি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা এটি।
পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাগ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, পেন্টাগনের প্রত্যাশার তুলনায় ইরান দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে এবং রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা সহায়তায় হামলার লক্ষ্যভেদের সক্ষমতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান নতুন বাস্তবতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন, যেগুলোর অনেকেই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটির বেশিরভাগই রকেট বা আইইডি হামলা প্রতিরোধে প্রস্তুত হলেও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলার জন্য নির্মিত নয়। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলায় ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে, প্রায় ৫০০ জন আহত এবং প্রায় ২২০টি সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একই সময়ে ভিন্ন গতি ও গতিপথের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ বলেন, অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও, কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে পারলেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ানও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে তুলনায় এখন ইরানের হামলা আরও বেশি নির্ভুল ও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে সিনেটরদের প্রশ্নের মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেন, ইরান বড় আকারের অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা গ্রস্ত হলেও, তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম। তাঁদের ধারণা, তেহরানের কৌশল সরাসরি সামরিক বিজয়ের চেয়ে ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রাখা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন