প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হলো। এই দেশের উপকূলে ১১৬ জন যাত্রী ও কর্মী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৫ জন শিশু সহ মোট ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী দল। কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, ব্যক্তিগত বিমান এবং স্থানীয় জেলে ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন।
গত শনিবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে রওনা দিয়েছিল ‘এমভি বারিমা’ নামের নৌযানটি। এর উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলা সীমান্তের নিকটে, তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমা পর্যন্ত পৌঁছানো। কিন্তু শনিবার রাত ১১টার পরে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় নৌযানটি থেকে একটি জরুরি বিপদসংকেত পাঠানো হয়।
এরপর যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। দেশবাসীকে বাঁচাতে গায়ানা প্রতিরক্ষা বাহিনী, উপকূলরক্ষী, বিমানবাহিনী, নিজেদের ব্যক্তিগত বিমান, এবং মাছ ধরার নৌকা নিয়ে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকরা।
রবিবার (১৯ জুলাই) গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস এক বিবৃতিতে জানান, সাগরে মানুষের জীবন বাঁচাতে অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০৭০ বর্গ কিলোমিটার করা হয়েছে। সেই সাথে জলপথের গতিপ্রকৃতি চেনা স্থানীয় জেলেদেরও এই উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ঠিক কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে, তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্যের বোঝাইয়ের মতো অবহলার কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানানো হয়েছে। গায়ানার গণপূর্ত মন্ত্রী হুয়ান এডগিল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দেখা গেছে, জাহাজটি আইনি নিয়ম মেনেই চলাচল করছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, ‘জাহাজটির ইঞ্জিনে বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। অতিরিক্ত পণ্য বা ওজনের কারণেও এটি ডুবেনি। আসলে সমুদ্রের প্রচণ্ড ও আকস্মিক জোয়ারের তোড়ে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩৯৭ জন যাত্রী এবং ২৮৪ টন পণ্য পরিবহনের ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজটি অনুমোদিত সীমার চেয়ে কম বোঝাই ছিল, অর্থাৎ ২৬৮ টন পণ্য বহন করেছিল। ছাড়াও জরুরি সুরক্ষার জন্য জাহাজটিতে ২৫০টি লাইফজ্যাকেট, দুটি লাইফবোট এবং ছয়টি ইনফ্ল্যাটেবল (হাওয়ায় ফোলানো) ভেলাও মজুত ছিল। তবুও প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে শেষ রক্ষা হয়নি এই জাহাজটির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন