প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও শোক র্যালি করা হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনটি সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলের মূল ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কালো ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে নিহত চারজনের আত্মার শান্তি কামনা করেন। বক্তারা বলেন, গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের একজন অত্যন্ত সম্মানিত সাবেক শিক্ষক এবং সমাজের পরিচিত মুখ ছিলেন। তার মতো একজন নিভৃতচারী শিক্ষক এবং তার সহধর্মিণী এবং দুই সন্তানকে, যাদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়মও রয়েছে, এভাবে হত্যা করা, পুরো রংপুরবাসীকে স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ একটি নাটকীয় প্রক্রিয়ায় তদন্ত সাজিয়ে তাড়াহুড়ো করে দুজন আসামিকে আইনের আওতায় এনেছে এবং তাদের স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক সন্দেহের উদ্রেক করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের এই তড়িঘড়ি বক্তব্য এবং রহস্যজনক পদক্ষেপ বিচারের নামে এক প্রহসন। এর ফলে মূল অপরাধীরা আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা প্রকৃত নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।
প্রতিবাদ কর্মসূচির শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল শোক র্যালি বের করেন। শোক র্যালিটি রংপুর নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং তারা জানায় যে বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে আয়ুশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন রবিবার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার জন্য ওই দুই মামাতো ভাই চারজনকে হত্যা করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা পুলিশি বক্তব্য মানতে নারাজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন