প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব এবার রাজধানীর কাঁচাবাজারে পড়েছে। এই বৃষ্টির ফলে ক্ষেতে ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম আরও বেড়ে গেছে। একই সময় ঊর্ধ্বমুখী ব্রয়লার মুরগি এবং মাছের বাজারও দেখা যাচ্ছে। ফলে, আজ সপ্তাহের বাজার করতে এসে সাধারণ মানুষ বাড়তি খরচ গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বেশ কিছু বাজার ঘুরে এমন চিত্র ধরা পড়েছে।
অতিবৃষ্টি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন জেলার সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকা থেকে নিয়মিত সবজি রাজধানীতে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে, কিছু কিছু সবজি সেই সীমাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় রয়েছে। কোথাও কোথাও ২৬০ টাকারও বেশি দাম দেখা যাচ্ছে। শসার দাম ১২০ টাকা, বরবটির দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়সের দাম ৬০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা, বেগুনের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে, পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, "বন্যার কারণে অনেক এলাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার যেসব এলাকা থেকে সবজি আসছে, সেখান থেকেও সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।"
আরেক বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, "বৃষ্টির কারণে পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।"
সবজির বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা মো. তাহের বলেন, "প্রতি সপ্তাহেই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে ১ হাজার টাকায় কয়েক দিনের বাজার হয়ে যেত, এখন শুধু সবজি কিনতেই সেই টাকা শেষ হয়ে যায়।"
গৃহিণী সাবিনা আক্তার বলেন, "কাঁচামরিচ, শসা, বেগুন-সবকিছুর দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে। প্রয়োজনের সব জিনিস আর কেনা যাচ্ছে না।"
অন্যদিকে, মুরগির বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে। মুরগি বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেছেন, "খামার থেকেই মুরগির দাম বেশি। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।"
মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজার অতীতে স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান জানান, "ডিমের সরবরাহ এখন মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। তাই গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি করছি।"
তবে মাছের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতারা বলছেন, "বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন