প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে রয়েছেন বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তিনি জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার অভিযোগ, তাকে এই মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ছরওয়ারে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ডিভাইস থেকে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইস তদন্তের জন্য চাওয়া হলেও সেগুলো প্রদান করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, "আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।"
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছরওয়ারে আলমকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। আদালতে তিনি নিজেকে অদৃশ্য করে তদন্তে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্ত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে যে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের জন্য আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা একাধিকবার চিঠি দিলেও সেগুলো এখনও পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালতের মাধ্যমে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাজিফুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে বাদীপক্ষের কাছে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিভাইস হস্তান্তরের বিষয়ে ডিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সেগুলো তদন্তের জন্য দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।
গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত একটি পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ছরওয়ারে আলম আদালতে বলেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মোবাইল, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ তদন্তের জন্য দিয়েছেন এবং তিনি হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন। পরে আদালত তাকে জামিন প্রদান করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন