প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত দ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিশালী আক্রমণের ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নরের বরাতে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রদেশের শাদেগান শহরের নিকটবর্তী একটি কৌশলগত স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান একটি নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার কিছু সময় পরে, স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ তারা করে যাচ্ছেন।
এদিকে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ইরানের বৃহত্তম দ্বীপ কেশমের উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি শক্তিশালী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। দ্বীপে অবস্থানরত একজন সংবাদদাতার বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটের সময় কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ এসে উপস্থিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্বীপের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনার উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে দ্বীপে অবস্থানরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
এর আগে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন অংশে গভীর রাতে বেশ কয়েকটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পরে, স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। তবে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম নিউজ পরে জানায়, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা মার্কিন যুদ্ধবিমানের আক্রমণের চূড়ান্ত প্রমাণ তারা এখনো পাননি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভাঙন ঘটার পর থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এই দুই দেশের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ অবরোধ নিয়ে দুই পক্ষের এই মরণপণ লড়াই পুরো বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকমের দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের হুমকি দেওয়ার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই অভিযান চলতে থাকবে। অন্যদিকে, ইরানও যেকোনো মূল্যে দেশটির সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারির কথা জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন