প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া একটি বই, যা প্রায় দেড় শতক আগে নেওয়া হয়েছিল, অবশেষে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বইটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টি-কুইটিজ অব অ্যাথেন্স নামে পরিচিত। বাড়ি সংস্কারের সময় এই বইটি একটি বন্ধ চিমনির ভেতরে লুকানো চায়ের কাঠের বাক্সে উদ্ধার করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জন্য তার উপর যে জরিমানা ছিল, সেটি বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা হতে পারত।
কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরি গত সপ্তাহে প্রায় ১৫০ বছর আগে ধার নেওয়া একটি বই ফিরিয়ে পেয়েছে। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানায়, বইটি একজন ব্যক্তির বাড়ি সংস্কারের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। বইটি একটি ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া অগ্নিকুণ্ডের (ফায়ারপ্লেস) ভেতরের চায়ের কাঠের বাক্সে লুকানো ছিল।
কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন বলেন, লাইব্রেরির প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় ধরে ফেরত না দেওয়া বইটির জরিমানা, মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করে, প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে দাঁড়ায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এত পুরোনো কোনো বই আমাদের কাছে আগে কখনও ফেরত আসেনি।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি যেসব লাইব্রেরিগুলিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা যায়।
এছাড়া, বইটি কে ধার নিয়েছিল, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার, যেখানে ধার নেওয়া বই ও ব্যাক্তির তথ্য ছিল, তা হারিয়ে গেছে। হাডসন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগটি নেই। বইটির ভেতরেও সর্বশেষ কেউ এটি নিয়েছিলেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’
লাইব্রেরির তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, ধার নেওয়া বই ফেরত না দিলে নতুন বই নেওয়া যেত না। যদি কোন পরিবারে অন্তত ছয়জন পড়তে জানতো, তারা সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারতো। মাতাল অবস্থায় কেউ আসলে তাকে বই দেওয়া হতো না।
লাইব্রেরির প্রাথমিক এক হাজার বইয়ের সংগ্রহে ৫০৬ নম্বর বইটি ছিল। দীর্ঘদিন চিমনির পাশে থাকায় বইটি পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাইব্রেরির ১৮৭২ সালে চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে যায়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায়, বইটি এখন কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে। মিশেল হাডসন মজা করে বলেন, ‘এবার আর বইটি কাউকে ধার দেওয়া হবে না। আবার এটি ফেরত পেতে আমি আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন