প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫নং উপাধি উত্তর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনটি বর্তমানে বহরী আড়ং বাজারে বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত কমপ্লেক্স ভবনটি একই ইউনিয়নের নওগাঁ মৌজার তিতার ভিটা নামক স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে বিগত ০৩/১১/২০১৯ইং তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসনিক অনুমোদন দেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের বিগত ০৩ নভেম্বর ২০১৯ইং তারিখের ৬৮৬নং স্মারকের প্রশাসনিক অনুমোদন চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুল, রিট পিটিশন নং- ১১৭৮৮/২০২৬। পিটিশনটি বিগত ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং তারিখে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী এর দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের তৃণমূল জনসাধারণকে একই ছাদের নিচে সকল সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এবং ইউনিয়ন পরিষদকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিগত ১৬/০৯/২০১৩ইং তারিখে একটি পরিপত্র জারি করে। উক্ত পরিপত্রের ২নং অনুচ্ছেদে ০৫টি এবং ৩নং অনুচ্ছেদে ০৭টিসহ মোট ১২টি শর্ত সন্নিবেশিত করেন। ২নং অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, নতুন কমপ্লেক্স ভবনের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভূমিতে পরিমাণ ও অবকাঠামগত সুবিধার শর্ত পূরণ হলে সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিপত্রের চতুর্থ অনুচ্ছেদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানটি নির্বাচনের যৌক্তিকতা যাচাই করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ৫ম অনুচ্ছেদে জেলা প্রশাসক নিজে অথবা উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার / একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তাবিত স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি থাকলে তার শুনানি নিয়ে সুস্পষ্ট মতামত সুপারিশসহ প্রস্তাব পত্র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট প্রেরণ করতে বলা হয়। রিট মামলার শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিকী আদালতকে জানান যে, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরিপত্রে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। বিদ্যমান স্থান এবং প্রস্তাবিত স্থান উভয় সরজমিনে পরিদর্শন করে জনসাধারণের কোন আপত্তি থাকলে তা শুনানি নিয়ে সমাধান করে নোটিশ জারি করে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই-পূর্বক সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। অথচ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিদ্যমান স্থানকে কোন ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি, সারজমিনে যাচাই করা হয়নি, নোটিশ টানানো হয়নি, আপত্তি শোনা হয়নি, যাহা সরকারের আদেশের পরিপন্থী। রিটকারি আইনজীবী তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রমানাদি বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করেন, রিটকারি আইনজীবীর শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রধান প্রকৌশলী এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতি রুল জারি করেন এবং ডাইরেকশন দেন। একই সাথে ৬০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে আদেশ প্রদান করেন। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের কপি দ্রুত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারি আইনজীবী। তিনি জানান, কতিপয় সরকারি কর্মকর্তাগণ অসৎ উপায় অবলম্বন করে বিদ্যমান স্থানে কোন ধরনের পরিদর্শন ছাড়াই এককেন্দ্রিক মতামত প্রেরণ করে রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে প্রতারণা করেছেন এবং একটি অগ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন, যাহার ভিত্তিতে প্রাপ্ত প্রশাসনিক অনুমোদন অবৈধ ও বাতিল যোগ্য হবে। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন