প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে দুই যমজ ভাইসহ তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর ভাটি বন্দর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই যমজ ভাই এবং অপরজন সবাই মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে নবম শ্রেণীর ছাত্র আরিফিন(১৫) এবং আশিকিন(১৫) যমজ দুই ভাই, আর বাকি একজন আবির অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা সকলেই মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস. স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা, নবম শ্রেণীর ছাত্র আরিফিন ও আশিকিন, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আবির এবং ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ফারিস রবিবার স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু তারা স্কুলে না গিয়ে চারজন মিলে মেঘনা নদীর ভাটি বন্দর কাঁশবনে বেড়াতে যায়। পরে নদীতে গোসল করতে নামলে ফারিস বাদে তিনজন নদীতে তলিয়ে যায়।
ফারিস এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, যখন তারা চারজন মিলে নদীতে গোসল করছিল, তখন তাদের পাশে মদিনা-৪ নামে একটি ব্লাকহেড ভিড়ানো ছিল। হঠাৎ সেই ব্লাকহেডটি চালু হলে পানিতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়। ফলে স্রোতের টানে তিনজন নদীর অনেক মাঝখানে চলে যায় এবং মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়।
ফারিস কিছুটা কাছাকাছি থাকায় স্থানীয় এক নারী নদীতে নেমে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় কয়েকজন ব্লাকহেডটি থামানোর চেষ্টা করে এবং তলিয়ে যাওয়াদের উদ্ধারের জন্য ডাক চিৎকার করে, কিন্তু ব্লাকহেডটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তাদের সাথে ঢাকা থেকে একটি ডুবুরি দল এসে যোগ দেয়। বিকেল পৌনে চারটার দিকে ডুবুরি দল জমজ দুই ভাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং পরে সাড়ে পাঁচটায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আবিরকে উদ্ধার করা হয়।
তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত দুই যমজ ভাই বেঁচে থাকা ফারিশের আপন চাচাতো ভাই। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, "আমাদের তিনজন ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে যাওয়া তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যে লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
সোনারগাঁও থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, "নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। দ্রুততার সাথে তিনজনের লাশ আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন