প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২০১৯ সালে স্ত্রী মোসা. রেহানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে স্বামী মো. মিজানুর রহমান, যিনি মিজান হোসেন নামেও পরিচিত,কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে রায় কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের পর তারা দীর্ঘ ১১ বছর সংসার করেন এবং তাদের ঘরে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু সংসার চলাকালে অভিযুক্ত মিজান বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করতেন। সেই টাকা দিতে না পারায় তিনি স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
রায়ে উল্লেখ করা হয়, মিজান বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন এবং তা পূরণ না হলে রেহানাকে মারধর করতেন। ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে তিনি ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরবর্তীতে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠালেও তার ওপর শারীরিক নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মিজান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্বাস বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার নথিতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে রেহানা আত্মহত্যা করেছেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) রায় ঘোষণার তিন কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নথিপত্র ও রায়ের অনুলিপি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন