ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চে গুয়েভারাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা, গান ও কবিতার আয়োজন


চে গুয়েভারাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা, গান ও কবিতার আয়োজন

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগ বিপ্লবী চে গুয়েভারার স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিভাগের সামনে ‘মাতৃভূমি, অথবা মৃত্যু’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চে গুয়েভারার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং সমকালীন বিশ্বে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন বিভাগের শিক্ষকেরা। এরপর গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে চে গুয়েভারার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান শিক্ষার্থীরা।

আলোচনার শুরুতে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খান তৌসিফ ওসমান চে গুয়েভারার সময়ের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি কিউবার বিপ্লব, লাতিন আমেরিকার তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশে চে গুয়েভারার চিন্তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে চে গুয়েভারার ভাবনা বর্তমান বিশ্বে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা-ও তিনি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: গ্রেড ফোরে হিফজ সম্পন্ন করলো রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫ শিক্ষার্থী

এরপর বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এহতেশাম উল হক। তিনি দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে চে গুয়েভারার রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ‘মাতৃভূমি, অথবা মৃত্যু’ কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জাতীয় স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং দেশের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেন। স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি তা রক্ষার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

আলোচনা শেষে তিথির ‘চে গুয়েভারা’ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নাজা বিনতে খালিদ নোভা। কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের ‘হাম দেখেঙ্গে’ পরিবেশন করেন তানজিলা ফেরদৌস মাহি।

নজরুলের ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নাহার ও সাদিয়া। ইতালির ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গান ‘বেলা চাও’-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন উম্মা রুমান লুবা।

এছাড়া খালিদ হাসান ও তার দল পরিবেশন করেন ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’। আমির আজিজের ‘সব কিছু মনে রাখা হবে’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন জাকিয়া।

আরও পড়ুন: বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিতে গিয়ে আয়াসসহ ৪ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিতে গিয়ে আয়াসসহ ৪ জন আটক

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি মাখানোর সময় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াশ এবং এক নারীসহ মোট চারজন আটক হন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।

শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার বেলা ১২টার কাছাকাছি সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

থানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় তাদের আটক করা হয়েছে।

এদিন সেগুনবাগিচায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের একটি কর্মসূচির ঘোষণা ছিল। সেই কর্মসূচির সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি মাখানোর চেষ্টা করায় তাদের আটক করা হয়।

গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।

পরে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালির বোলোটানার ছোট্ট গ্রামের নারীরা বাঁচে শতবর্ষ, নেপথ্যে রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


ইতালির বোলোটানার ছোট্ট গ্রামের নারীরা বাঁচে শতবর্ষ, নেপথ্যে রহস্য

ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের পাহাড়ি ছোট্ট গ্রাম বোলোটানায় নারীদের দীর্ঘায়ু নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি গ্রামটির কোনো নারী ৭০ বছর বয়সে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে তার ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

ফ্রোন্টিয়ারস ইন এইজইং সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বোলোটানায় ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানো নারীদের মধ্যে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশের শতবর্ষ পূর্ণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পুরো ইতালিতে এই হার প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী দীর্ঘায়ুর পেছনে স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন হাঁটাচলা, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক যোগাযোগ এবং সম্ভবত জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে। তবে কোন কারণটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নতুন ‘ব্লু জোন’ হতে পারে বোলোটানা

বিশ্বের যেসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং শতায়ু মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব অঞ্চলকে সাধারণভাবে ‘ব্লু জোন’ বলা হয়।

সার্ডিনিয়ার কিছু অঞ্চল দুই দশকেরও বেশি সময় আগে দীর্ঘায়ুর অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে নতুন গবেষণায় বোলোটানার নারীদের মধ্যে বিশেষ ধরনের দীর্ঘায়ুর প্রবণতা সামনে এসেছে।

গবেষকেরা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি পুরোনো সরকারি নথি ও গির্জার সংরক্ষিত নথি ব্যবহার করে বাসিন্দাদের জন্ম ও মৃত্যুর বয়স যাচাই করা হয়।

প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের এই গ্রামে ১৯০০ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ৩ হাজার ৬০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩৮ জনের সন্ধান পেয়েছেন।

৭০-এর পর আরও প্রায় ২১ বছর

গবেষণায় দেখা গেছে, বোলোটানার নারীরা ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর গড়ে আরও প্রায় ২১ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রাখেন।

বিশ্বের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করে গবেষকেরা দেখেছেন, ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং ১০০ বছর পূর্ণ করার সম্ভাবনার দিক থেকে বোলোটানার নারীরা হংকংয়ের নারীদের পরেই রয়েছে।

গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় শিকাগোর স্কুল অব পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজির ইমেরিটাস অধ্যাপক এস জে অলশানস্কির মতে, বোলোটানার বিশেষত্ব হলো এর দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক নথি। এসব নথির মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যুর বয়স স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।

হাঁটাচলা ও খাবারের ভূমিকা

বিজ্ঞানীরা এখনো বোলোটানার দীর্ঘায়ুর নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি। তবে গ্রামটির জীবনযাপন থেকে কয়েকটি বিষয় তাঁদের নজরে এসেছে।

বোলোটানার রাস্তা ও আশপাশের এলাকা বেশ খাড়া ও পাহাড়ি। ফলে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় হাঁটার ভূমিকা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির পরিবর্তে পায়ে হেঁটেই প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়।

খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবারের পাশাপাশি জলপাই ও জলপাইয়ের তেল এখানকার খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। জলপাইয়ের তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি হৃদ্যন্ত্রসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস দিয়েই বোলোটানার নারীদের দীর্ঘায়ু ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ক

বোলোটানার বাসিন্দাদের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী। অনেক মানুষ আত্মীয়স্বজনের কাছাকাছি বসবাস করেন। ফলে বয়স্ক ব্যক্তিদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

অলশানস্কির মতে, ঘনিষ্ঠ সামাজিক পরিবেশে মানুষ একে অপরের যত্ন নেয়। দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক চলাফেরা এবং সামাজিক যোগাযোগ—দুটিই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পরিবার ও সামাজিক সহায়তা এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্য- সবকিছুর সমন্বিত প্রভাব থাকতে পারে। তবে শুধু বোলোটানার জীবনযাপন নকল করলেই দীর্ঘায়ু নিশ্চিত নয়।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বোলোটানার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে কোনো একটি কারণকে সরাসরি দায়ী করা যায় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়পর্বে দীর্ঘায়ুর এই প্রবণতার মাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বোলোটানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত ‘ব্লু জোন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে আরও দীর্ঘ সময়ের তথ্য ও স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীদের আশা, এই গ্রামের মানুষের জীবনযাপন নিয়ে আরও গবেষণা করলে সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে খাদ্য, শারীরিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সম্পর্ক ও পরিবেশের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষেও থামেনি সমসু মিয়ার মানবসেবা, বিনা পয়সায় খুঁড়েছেন শতাধিক কবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


শতবর্ষেও থামেনি সমসু মিয়ার মানবসেবা, বিনা পয়সায় খুঁড়েছেন শতাধিক কবর

বয়স তার ১১০ বছর। শরীরের অবস্থা নুয়ে পড়েছে। চলাফেরা করতে হয় লাঠির সাহায্যে। তবুও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সেবার স্মৃতি বহন করছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের শেষ বিদায়ের সঙ্গী হিসেবে কাটিয়েছেন। বিনা পারিশ্রমিকে শতাধিক মানুষের কবর খুঁড়েছেন তিনি। তিনি হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া।

যখনই কারও মৃত্যুর খবর আসতো, তখনই কোদাল ও শাবল হাতে ছুটে যেতেন সমসু মিয়া। রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারতো না। তিনি কোনো টাকা-পয়সার প্রত্যাশা করতেন না। তার কাছে ছিল শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় তিনি বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করে গেছেন।

শিবপুর গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় তিনি ছিলেন মানুষের ভরসা। যখনই কোনো বাড়িতে মৃত্যুর খবর আসতো, তখনই ডাক পড়তো তার। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। কবরের স্থান নির্ধারণ করতেন এবং নিজ হাতে মাটি কাটতেন। নীরবে এই কঠিন দায়িত্ব পালন করতেন।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, সমসু মিয়া শুধু নিজে কবর খনন করেননি, বরং অনেক তরুণকেও শিখিয়েছেন কিভাবে নিয়ম মেনে কবর খুঁড়তে হয়। তার কাছে এই কাজটি ছিল কোনো পেশা নয়, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার প্রকাশ।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শরীরের শক্তি পরিবর্তিত হয়েছে। ১১০ বছর বয়সে এখন আর আগের মতো শক্ত মাটি কাটতে পারেন না। তবুও কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান। নিজে কবর খুঁড়তে না পারলেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

শারীরিক দুর্বলতা তাকে পুরোপুরি থামাতে পারেনি। লাঠিতে ভর দিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দূরের মসজিদে গিয়ে এখনো জামাতে নামাজ আদায় করেন তিনি।

সমসু মিয়ার কাছে মৃত্যু জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার বিশ্বাস, একদিন সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মানুষের শেষযাত্রায় পাশে থাকতে পারাটাই তার জীবনের বড় তৃপ্তি।

শিবপুর গ্রামের সাংবাদিক সাব্বির হাসান জানান, গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া আজ আর শুধু একজন শতবর্ষী মানুষ নন। তিনি নিঃস্বার্থ সেবা ও পরোপকারের এক জীবন্ত উদাহরণ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তার নেই কোনো বড়াই। নেই কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা।

মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। আর সেই কবর খুঁড়েই সমসু মিয়া জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়ে দিয়েছেন নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে। তার এই মানবসেবা শিবপুর গ্রামের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ খাড়গের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ খাড়গের

ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এক কঠোর আক্রমণ পরিচালনা করে অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশের গৌরবময় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে গলা টিপে একটি পরাধীন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পর তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দিল্লির এই পুলিশি কড়াকড়ির তীব্র সমালোচনা করে খাড়গে বলেন যে বর্তমান প্রশাসন দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ, আইনজীবী, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, খামার ইউনিয়নের নেতা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নির্বিচারে আটক করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খাড়গে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে এই ধরনের আচরণ আজ সকলের সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে।

কংগ্রেস সভাপতি দৃঢ়ভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে পুলিশি গ্রেফতারি বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকেই যুবসমাজ ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি ঘোষণা করেন যে বর্তমান দমনপীড়নমূলক সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস দল ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন শিবিরের পক্ষ থেকেও এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। শাসক দলের শীর্ষ নেতারা এই ধরনের জমায়েত ও আন্দোলনকে দেশের অগ্রগতি ব্যাহত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কিছু গোষ্ঠী দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সবমিলিয়ে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাদের ধারাবাহিক ধরপাকড়ের ঘটনায় ভারতের জাতীয় রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%