প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন অভিযোগ করেছেন যে, ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ফলে তিনি হলিউডে পেশাগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার দাবি, কিছু প্রভাবশালী ট্যালেন্ট এজেন্সি এখনো প্রযোজকদেরকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছে যাতে তারা তাকে সিনেমায় না নেন।
৭৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ইতালিতে চলমান ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। সারান্ডন বলেন, ফিলিস্তিনের ইতিহাস এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। তবে, হলিউডের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে কিংবা ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনীহা বিদ্যমান। এই পরিস্থিতির প্রভাব তার ক্যারিয়ারে পড়েছে বলেও তিনি জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কারণে তার বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সারান্ডন।
পেশাগত বাধার কথা বলার পরও তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনে সন্তুষ্ট। ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এ অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিনেমাটি প্রখ্যাত ইতালীয় নির্মাতা বের্নার্দো বের্তোলুচ্চির শেষ চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এতে তিনি একজন বয়স্ক গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ইকো চেম্বার’ সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গোল্ডেন লায়ন’-এর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২১টি সিনেমার মধ্যে রয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে সারান্ডনের অবস্থান নতুন নয়। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনপন্থী একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের চুক্তি বাতিল করে হলিউডের শীর্ষ প্রতিভা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সি (ইউটিএ)। এরপর থেকে তার ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থানের কারণে হলিউডে তার পেশাগত অবস্থানে কী প্রভাব পড়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবেও ফিলিস্তিনের ওপর চলমান সংঘাত ও আগ্রাসন গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। উৎসবে প্রদর্শিত কয়েকটি সিনেমায় ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে, উৎসব প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক আলবের্তো বারবেরা। তার ব্যাখ্যা, ইতালি সরকার এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসরে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন