প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নির্মাণ খাতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর ৩০ বাংলাদেশিকে দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মাত্র ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণের পর তাদেরকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৭ জন যুদ্ধে যোগদানের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান।
এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় এসআরবি।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় পৌঁছান। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হয়।
মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, যাদের বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছে, তারা আসলে যুদ্ধের জন্য যোগ্য নয়। তাদের শারীরিক, প্রশিক্ষণ বা কৌশল— কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছিল না। তাহলে মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণে তাদের কেন পাঠানো হলো? আমাদের ধারণা, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য, এক ধরনের শিকার হিসেবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। যখন প্রতিপক্ষ তাদের ওপর ড্রোন হামলা করে, তখন ওই দেশটি শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করে।
এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনটি ভাগে (প্রথম ভাগ, মধ্যভাগ ও শেষভাগ) তাদের মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বলেন, জীবিতদের মধ্যে দুইজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাদের একজন রাজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের আঘাতে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজনের মধ্যে দুইজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
তিনি বলেন, এই মানব পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি চক্রের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারী যুক্ত ছিলেন। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান চলছে। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, রাশিয়ার যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের লোকজন একইভাবে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে, বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুর থেকেও লোকজন গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কেউ কেউ ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন তাদের পরিবারের অনেকেই স্বজনের মৃত্যুর খবর পেলেও মরদেহ দেখার বা দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছেন না।
বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেন ও যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এসআরবির এই কর্মকর্তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন