প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার অনুপস্থিত থাকায় সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেন, সাপ্তাহে মাত্র দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অফিস পরিচালনা করছেন, ফলে বিপুলসংখ্যক দলিল আটকে রয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগেরে কারণে অবিলম্বে সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন সেবাগ্রহীতারা। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ‘ভুক্তভোগী জমির ক্রেতা-বিক্রেতা’ ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সেবাগ্রহীতারা জানান, শেরপুর সদর অফিসের পর এই অফিসটি বগুড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু, এখানে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার অবিলম্বে নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জানানো হয়েছে, সপ্তাহে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন অফিস করা হচ্ছে। এই কারণে দেরিতে দলিল সম্পাদন হচ্ছে এবং দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের জানান, তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের দলিলের কাজ সম্পর্কিত বিষয়ে এসে দেখেন অনেক দলিল আটকে আছে। সপ্তাহে দুই দিন কয়েক ঘণ্টা কাজ করে এই বড় অফিসের বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন করা সম্ভব নয়।
সীমাবাড়ী ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা জানালেন, ১৩ জন ওয়ারিশ নিয়ে শিমলা এলাকা থেকে ছয়বার অফিসে এসে তাঁরা দলিল সম্পাদন করতে পারেননি। বারবার অফিসে যাতায়াতের কারণে তাঁদের একজন অসুস্থ বোন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানান।
অফিসের কর্মচারী সজীবের দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রতিদিন ৩৫০টির বেশি দলিল জমা পড়লেও এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি দলিল সম্পাদিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল জমে থাকছে।
এদিকে, সেবাগ্রহীতাদের স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, “শেরপুর অফিসে একজন নিয়মিত কর্মকর্তা পদায়ন করা খুবই জরুরি। আমি সেবাগ্রহীতাদের এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত।”
তবে, অফিসে দেরি করে আসার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। নাঈমা সিদ্দিকা জানান, “অফিসে দেরি করে আসার অভিযোগটি সঠিক নয়। আমি জেলা রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনেও অফিসে কাজ করেছি। অতিরিক্ত সময় দিয়ে দিনে প্রায় ২০০টি দলিল রেজিস্ট্রি করার নজিরও আমার রয়েছে।”
এছাড়া, বুধবার তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছুটা দেরি হওয়ার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দলিল লেখকদের জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আজ বুধবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একটু দেরি হওয়ায় বিষয়টি আমি আগেই আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দলিল লেখকদের অবহিত করেছিলাম।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন