প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু
গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ)। এই অধিবেশনটি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু সঙ্কটের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতি নির্ধারণ, সংলাপ ও সমঝোতার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। বৈশ্বিক সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের বোঝা আন্তর্জাতিক সংহতিকে দুর্বল করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনের মূল আলোচনা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, অবাধ বাণিজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ওপর আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বরাবরই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে, ফলে এবারের অধিবেশনে ঢাকার ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর কাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি শুরু হবে। তিনি উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি একাধিক বহুপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যকর অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন।
সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতীয় নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরা হবে। নীতি-নির্ধারণী সূত্র অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বর্তমান চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তর, প্রযুক্তি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সবুজ শিল্পায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের আহ্বান জানানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান:
বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গার নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি বিশ্বমঞ্চে আবারও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ এই মানবিক সংকট থেকে সরে না যায়। একই সাথে আন্তর্জাতিক ত্রাণ তহবিলের ঘাটতি পূরণের জোরালো তাগিদ থাকবে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ :
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকার রক্ষা এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (ক্ষয়ক্ষতি) তহবিলের দ্রুত বাস্তবায়নের স্পষ্ট দাবি জানাবেন।
রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক কূটনীতি। সফরকালে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট ও শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে একটি বিশেষ বিজনেস গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন