প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
রিমান্ড শুনানির সময় ডনের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান, ফরিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন।
আইনজীবী আবুল কালাম খান রিমান্ডের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেন, ‘ডনের জনপ্রিয়তার কারণেই সালমান শাহ এত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ডন একজন খল অভিনেতা এবং দেশের মানুষের জন্য তিনি অনেক শিক্ষণীয় কাজ করেছেন, তার অবদান রয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
পিপি বলেন, মামলার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সালমান শাহকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং কত লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য উঠে এসেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আত্মগোপনে থাকা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কার ইন্ধনে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
প্রায় ৩০ বছর আগে জনপ্রিয় এই নায়কের মৃত্যু ঘটে। ১৯৯৬ সালের পর অনেক নায়ক এলেও সালমান শাহর মতো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে কেউ সক্ষম হয়নি।
পিপি বলেন, “সম্প্রতি একটি হোটেলে নাশতা করতে গেলে ২২ বছরের এক তরুণ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘স্যার, সালমান শাহর বিচারটা কি হবে?’” সঠিক তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন।
গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এটি একটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, আসামির সহযোগী অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কার ইন্ধনে ও কিভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন—এসব বিষয়ে জানতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন