প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় শুধুমাত্র দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশগুলো নয়, পূর্বাঞ্চলে পবিত্র শহর মাশহাদের দিকে যাওয়া সড়কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আইআরজিসির অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে মাশহাদের পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে খামেনির দাফন ও রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা অনুষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে চেয়েছে। এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
খামেনির শোকযাত্রার সময় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ইরানে বড় আকারের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল।
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসি একটি বিবৃতিতে জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারও বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুতে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় সেতুর আশপাশের একটি রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে (আইআরআইবি) প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের 'শাস্তিমূলক জবাবের' প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই হামলাটি আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক দাফন অনুষ্ঠানকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন