প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউপির ঐতিহ্যবাহী ভরাসার বাজারের প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো একটি বটগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে যে, প্রায় দেড়শ বছর আগে বটগাছটির চারপাশে ভরাসার বাজার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে গাছটির নিচে এবং আশপাশে সরকারি (খাস) এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় প্রায় ৩৬০টি দোকানপাট ও হাটবাজার রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই বটগাছ কেবল বাজারের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিযোগ, বাজারের খাস জায়গা দখল করে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদন ছাড়াই ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়াজী এবং সিরাজুল ইসলাম খোকনদের নেতৃত্বে সরকারি জায়গায় থাকা শতবর্ষী বটগাছটি কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গাছটির কয়েকটি বড় ডালও কেটে ফেলা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মাহবুবুর রহমান পক্কু বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি, গাছটি কাটার পেছনে কিছু স্বার্থ থাকতে পারে। বাজারের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক এই বটগাছ। এটি কেটে ফেললে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
গাছ কাটার আগে ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘ভরাসার বাজারে পুরনো বটগাছটি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।’ এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু বাজার পরিদর্শন করে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির কমান্ডার বাহার মিয়া ও যুগ্ম সম্পাদক রতন জানান, গাছটি অনেক পুরনো। এর ছায়াতেই বাজার গড়ে উঠেছে। তারা জানেন না, কারা মোটা ডালগুলো কেটেছে। তবে পুরো গাছ কেটে ফেললে বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এই বট গাছটির কারণে দোকানদাররা আতঙ্কে রয়েছেন। যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমরা গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কয়েকটি ডাল কেটেছি।’
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বটগাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। কী কারণে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।’
এই বিষয়ে বুড়িচং ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. তারেক বিন ওয়ালী বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় কিছু লোক গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কয়েকটি ডাল কেটে ফেলে। ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।’
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ভরাসার বাজারের বটগাছ কাটার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের লোকজন পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন