প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন সংস্কারের জন্য ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোনো কাজ না করেই ওই টাকা তুলে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ওই টাকা আত্মসাতের চেষ্টায় ছিলেন।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) কালের কণ্ঠ অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরের দিন, ইউএনও ফয়সাল আহমেদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, ছয় ইউপি ভবন সংস্কারের ৬০ লাখ টাকা পে অর্ডার করে রেখেছেন। তিনি দাবি করেন যে, ওই টাকায় ভবন সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সাংবাদিক কালের কণ্ঠকে জানান, ওই সময় একজন সাংবাদিক ইউএনওর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দরপত্র আহ্বান না করে কিভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলো। পরে ইউএনও ওই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
এছাড়া সোমবার হালুয়াঘাটের ইউএনও এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে বিভ্রান্তিকর এবং অপ্রচার বলেও দাবি করেন।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. সালমান ওমর রুবেল কালের কণ্ঠকে জানান, ‘ছয় ইউপি ভবন সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার খবরটিই ইউএনও আমাকে জানাননি। গতকাল (সোমবার) সংবাদমাধ্যমে খবরটি জানলাম। পরে ইউএনওর কাছে বিষয়টি জানাতে চাইলে তিনি আমাকেও সংস্কারের টাকা পে অর্ডার করে রাখার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককেও বলেছি। কোনো অনিয়ম হলে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় নেই। এলাকা গিয়ে ইউএনওর সঙ্গে জানতে চাইব, কোন প্রক্রিয়ায় তিনি ঠিকাদার নিয়োগ করেছেন।’
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘সরকারি বরাদ্দের টাকা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম। হালুয়াঘাটে ছয় ইউপি ভবন সংস্কারে সে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। তবে ইউএনওর বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি।’
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ছয় ইউপি ভবন সংস্কারের জন্য ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এ সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না হলে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু হালুয়াঘাটের ছয় ইউপি ভবন সংস্কার না হলেও টাকা ফেরত দেননি ইউএনও ফয়সাল আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, ওই টাকা তিনি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছিলেন। গত রবিবার (২ আগস্ট) সংস্কারের তালিকায় থাকা চারটি ইউপি ভবন সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কোনও ধরনের সংস্কারকাজ হয়নি।
এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘বর্ষাকাল থাকায় সময়মতো কাজ শেষ করা যায়নি। তবে কাজ চলমান।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন