প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বরিশালের বিএনপি নেতা আলবার্ট রিপন বল্লভ। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় তোলা কিছু বিচ্ছিন্ন ছবি ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আলবার্ট রিপন বল্লভের অভিযোগ, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন সময়ের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছবি প্রচার করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা কিংবা সামাজিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তোলাকে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা আদর্শিক অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বরিশাল মহানগর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কোতোয়ালি থানার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
এ ছাড়া হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বরিশাল মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে সংগঠনটির মহানগর সহসভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্ট বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।
পাশাপাশি বিএনপিপন্থী বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবেও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আলবার্ট রিপন বল্লভ বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় তৎকালীন সিটি মেয়রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা হয়েছিল। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল সামাজিক সৌজন্য ও আমন্ত্রণের অংশ। কিন্তু সেই ছবিগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আমার রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিএনপির প্রতি আমার ভালোবাসা ও আস্থা ছিল, আছে এবং আজীবন থাকবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার স্বাভাবিক অংশ। তবে বিচ্ছিন্ন ছবি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়কে রাজনৈতিক অবস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হলে তা বিভ্রান্তি তৈরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলবার্ট রিপন বল্লভের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা বিচ্ছিন্ন ছবি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দায়িত্ব ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার ভিত্তিতেই তাঁর মূল্যায়ন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন