প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষায় পিএইচডিধারী শিক্ষকের অভাব পূরণ এবং দেশের গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এবং বিদেশে অন্তত ৩ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া, হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় গবেষণার মানোন্নয়নে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে হিট প্রকল্পের আওতায় এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় পিএইচডিধারী শিক্ষক ও দক্ষ গবেষকের সংখ্যা এখনও যথেষ্ট নয়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য চলতি বছর ইউজিসির পিএইচডি ফেলোশিপের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী বছর এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম গবেষক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
হিট প্রকল্পের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার গবেষণা অনুদান সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা প্রস্তাবের গুণগত মান, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণার অবদানকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য উপপ্রকল্প নির্বাচন করে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে হিট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন ও কোষাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দিতে গাজীপুরে একটি ‘উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি’ এবং ঢাকার বাইরে আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, হিট প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তিন থেকে ছয় মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ দিতে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এসব একাডেমিতে শিক্ষক ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি শিল্প খাতের নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এ প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা উচ্চশিক্ষায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনবে।
গত ৯ থেকে ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ছয় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান, অ্যাডভান্স এইচইর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মার্ক ফিলিপ ও হারা, হিট প্রকল্পের চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক সেলিনা জামান এবং ইউজিসির সংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন