প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করার ফলে দেশটির সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রাজিলের রপ্তানি করা মাংস ইইউর পশুস্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়—এমন পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা না পাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইইউর এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কবে পর্যন্ত থাকবে, সে বিষয়ে ইইউ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্য পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইইউর নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়—এমন প্রমাণ দিতে পারেনি দেশটি।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করছে চলমান আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, এই প্রক্রিয়াটি যেন কোনো ধরনের সুরক্ষাবাদী বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চাপমুক্ত থাকে।
আগের মাসে, মে মাসে, ব্রাজিলকে ইইউ সেই দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যেসব দেশ পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না।
ইইউ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি কমাতে পশুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটানোর জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসায় সংরক্ষিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
ব্রাজিলের দুই মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি ইউরোপের বাজারে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইইউর বাজারে রপ্তানি করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে ব্রাজিলের পণ্য ইউরোপীয় মানদণ্ড মেনে চলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্রাজিল সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ইইউকে সংশ্লিষ্ট তথ্যও সরবরাহ করেছে।
ব্রাজিল সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি আলোচনার মাধ্যমে সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়া যায়, তবে তারা ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।
ইইউর এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুর—যার সদস্য আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে—এর সঙ্গে জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের কৃষিপণ্যবিষয়ক নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করছে।
চুক্তিটি সইয়ের পর ইউরোপের কৃষকদের পাশাপাশি বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকেও ইইউ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য ও প্রাণিজ খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গরুর মাংস সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। ওই বছর ব্রাজিল ইইউর বাজারে ৯২ হাজার টনের বেশি গরুর মাংস রপ্তানি করে, যার মোট মূল্য ছিল ৭১৩ মিলিয়ন ইউরোর বেশি (প্রায় ৮২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
ইইউর সর্বশেষ স্থগিতাদেশ শুধু গরুর মাংসের ক্ষেত্রে নয়। এর আওতায় পোলট্রি বা মুরগির মাংস, ডিম ও মধুসহ আরও কয়েকটি পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন