প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রম আদালতের মামলাসংক্রান্ত কার্যক্রমে শ্রমিকদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৩ জন শ্রমিক প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে উন্নত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সনদ বিতরণ করা হয়।
এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগকে আরো শক্তিশালী করা এবং শ্রমসংক্রান্ত মামলায় তাদের সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সলিডারিটি সেন্টার (এসসি) বাংলাদেশের উদ্যোগে ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২২০ ধারা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই ধারার অধীনে, সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলে, কোনো ব্যক্তি শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিজে, লিখিতভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন, হাজিরা বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন—আইনে নির্ধারিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অভিযোগ তৈরি ও দাখিল, মামলা করার সময়সীমা, প্লিডিং বা লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত, সাক্ষীদের জেরা ও জবানবন্দি গ্রহণ, আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে মক ট্রায়াল, প্রদর্শনী ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা-ভিত্তিক ব্যবহারিক অনুশীলনের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে আনা পরিবর্তন এবং বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান সম্পর্কেও প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা প্রদান করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষিত শ্রমিক প্রতিনিধিরা পেশাদার আইনজীবীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবেন না। তারা শ্রমিকদের প্রাথমিক আইনি তথ্য প্রদান, মামলা প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করবেন। বিশেষায়িত আইনি পরামর্শ ও জটিল মামলা পরিচালনায় আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও নেতাদের জন্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় এবার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পেশাদার আইনজীবীদের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রেখে শ্রম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত দক্ষতা দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য নিয়মিত মেন্টরিং, আদালতের কার্যক্রমে বাস্তব অভিজ্ঞতা, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক আইনি সহায়তা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, একসময় শ্রম আদালতে শ্রমিক প্রতিনিধিরা চর্চা করতেন। বিভিন্ন কারণে পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে আইনে এখনো এ ধরনের চর্চার সুযোগ রয়েছে। প্যারালিগ্যালরা শ্রমিকদের যত বেশি সহায়তা করবেন, শ্রমিকেরা আইনি প্রক্রিয়ার কাগুজে জটিলতা থেকে তত বেশি সুরাহা পাবেন।
সনদ গ্রহণকারী প্যারালিগ্যাল মো. রিপন মিঞা বলেন, একজন আইনজীবী হতে হলে অনেক আইন জানতে হয়। সলিডারিটি সেন্টারের প্রশিক্ষণ তাদের মামলা পরিচালনার বিভিন্ন সূক্ষ্ম ধাপ সম্পর্কে শিখিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রম আদালতের কার্যক্রমে তাদের আরো কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সক্ষম করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন