প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার পাইকগাছায় প্রায় ১শ ভূমিহীন পরিবার তাদের দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা রেকর্ডীয কৃষি খাস জমিতে হঠাৎ করে সরকারি সাইনবোর্ড টাঙানো হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। এসব ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষসহ বাড়ীঘর বেধে বসবাস করলেও বর্তমানে তারা অজানা আশঙ্কায় ভূগছেন!
জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসব বন্দোবস্তকৃত জমিতে সরকারি ভিপি সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলে বন্দোবস্ত গ্রহিতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। এ অবস্থায় প্রতিকার পেতে পাইকগাছা, পারিশামারি, কাঠামারি, কাঁকড়াবুনিয়া ও দক্ষিণ কাঠামারি মৌজার ৫৯ ভুক্তভোগী খাস বন্দোবস্ত গ্রহিতা মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বিকে গভীরভাবে তদন্ত করে এবং কাগজপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামূল হক, আহবায়ক কমিটির সদস্য তুষার কান্তি মন্ডল, আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সানা ও জিএম রেজাউল করিম, এ্যাড. কালিপদ মন্ডলসহ বন্দোবস্ত গ্রহিতারা।
জানা গেছে, বিগত ৮০ ও ৯০ দশকে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ভিলেজ পাইকগাছাসহ আশ-পাশ গ্রামের ভূমিহীন কৃষকরা পারিশামারি, কাঠামারি, কাঁকড়াবুনিয়া সহ ৫টি মৌজায় প্রায় ২শ একর খাস জমি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হন। সেই থেকে এ পর্যন্ত সকল বন্দোবস্ত গ্রহিতারা কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ এমনকি বাড়ি ঘর বেধে বসবাস করছেন। এ জমি নিয়ে ইতোপূর্বে কোথাও কোন অভিযোগ বা আপত্তি হয়নি। এ প্রসঙ্গে ভিলেজ পাইকগাছার বাসিন্দা বন্দোবস্ত গ্রহিতা কৃষক মো, শফি গাজী, আঃ মজিদ হাজরা, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর মালী, হালিমা বিবি জানান, "আমরা বিভিন্ন মৌজায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি কেউ ৬ বিঘা, কেউ সাড়ে ৪ বিঘা বা ৩ বিঘা বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে আছি। যার নামজারি ও বর্তমান জরিপে রেকর্ড ও অনলাইনে কর-খাজনাও পরিশোধ করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে এসিল্যান্ড অফিস থেকে এসব বন্দোবস্তকৃত জমি ভিপি সম্পত্তি বলে সাইনবোর্ড দিলে বিপদে পড়েছি।"
জানা গেছে, এসব বন্দোবস্তকৃত জমি পূর্বে ১নং খাস খতিয়ান, জলমহাল ও সরকারি ভিপি তালিকাভুক্ত ছিল। কিন্তু ১-২-৮৯ সালে সরকারি নিয়ম নীতি মেনে ভিপি অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে মিস কেসের মাধ্যমে ৯২ এর (ক) ধারায় এ সম্পত্তি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত হলে ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "ভয় পাবার কিছু নেই।" তিনি ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র ও বন্দোবস্ত দলিল এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন