প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত সরকার দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর এমনভাবে ভেঙে দিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিনতম সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের সবাইকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
আজ বুধবার বিকেল ৩টায় ভোলার নতুন বাজার চত্বর এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত একটি গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা সফরে আসেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষে বিকেল ৪টায় শহরের উকিলপাড়াস্থ নিজের বাসভবনে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় জেলা পুলিশ কর্তৃক গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তথ্যমন্ত্রী।
বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে আন্দোলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের শাসনকাল থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছর জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর অপূরণীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনে রাজনীতিতে নানা প্রলোভন ও সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আমি জিয়া পরিবারের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলাম। জিয়া পরিবার ও দল আমাকে সেই মূল্যায়ন করেছে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
ভোলার ভৌগোলিক ও সামাজিক অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে কে আমাকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি- তা দেখার বিষয় নয়। ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন, সবাইকে সাথে নিয়ে ভোলার উন্নয়নের কাজ করতে হবে।’
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমপি হিসেবে বিগত সময়ে আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। আমার দল বা নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা টেন্ডারবাজি করলে তাকে বরদাশত করা হবে না; সে আমার দলের লোক হতে পারে না।’
টিআর ও কাবিখাসহ সরকারি প্রকল্পের কোনো অনিয়ম হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এর আগে আজ সকালে মন্ত্রী ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশাল ও লাহারহাট হয়ে স্পিডবোটযোগে ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা জেলার সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাছিম বিল্লাহর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন