প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরসিংদীর মনোহরদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় এসআরবি কর্তৃক শরিফুল ইসলাম শাকিল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মনোহরদী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামের কাজী নজরুল ইসলাম বাদশাহর পুত্র।
মামলার সূত্রে জানা যায়, চালাকচর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রোকেয়া আক্তারের স্বামী জাকির হোসেন চালাকচর বাজারে একটি ভাড়া দোকানে ব্যবসা করতেন। দোকানের মালিক সাজ্জাদ আলী বাহার দোকানটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত জানালে, জাকির হোসেন দোকানটি কেনার জন্য তাঁকে ১৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দোকান বুঝিয়ে না দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের মধ্যে শাকিল দোকান মালিকের পক্ষে দাঁড়িয়ে রোকেয়া আক্তার ও তাঁর স্বামীকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে শাকিল তাঁদের দোকানে গিয়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের মানহানি করার হুমকি দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রোকেয়া আক্তারের নামে ফেসবুকে চাঁদাবাজির অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাকিলের বিরুদ্ধে। রোকেয়া অভিযোগ করেন, এসব পোস্ট স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় তিনি নরসিংদী জজ কোর্টে শাকিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। পরে শাকিল আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর প্রেক্ষিতে এসআরবি অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
রোকেয়া আক্তার বলেন, "শাকিল বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পোস্ট করে মানহানি করেন।" এসব কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করেন রোকেয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাকিল বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের। এ বিষয়ে শাকিলের ফেসবুক পোস্ট ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়ার অডিও রেকর্ড রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, "শাকিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন