প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের ফল পাল্টাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনীতিক এবং বিশ্লেষকেরা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ভোটারদের ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত। এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির প্রধান ডেভিড জিনি। নির্বাচনে জালিয়াতি, ঘুস এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনিপন্থী রাজনৈতিক দল রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত দল দুটি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন লাভ করেছে। নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, শিন বেত মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদক আবদ আবু শাহাদেহকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা আহমাদ তিবি, সামি আবু শাহাদেহ, মানসুর আব্বাস ও আয়মান ওদেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করছে গোয়েন্দা সংস্থাটি, এমন খবর প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম।
ইসরাইল বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান সতর্ক করে বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ বিনা পরোয়ানায় রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করছে। শিন বেত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই। একই সঙ্গে বিদায়ী সরকার নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকার করছে।
পরে, গোলান নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা এবং জোর করে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ তোলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার বলেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা সরকারের অনুগত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় নেতানিয়াহু গণতন্ত্রকে ধ্বংস এবং নির্বাচনের ফল চুরি করার চেষ্টা করছেন।
বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি, রাজপথে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সাংবাদিক আমোস হেরেলও নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ মিলে দেশটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে, বুধবার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি, ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগও কমিশন নাকচ করেছে।
তবে, শিন বেতের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির তদন্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে জানিয়েছে, এসব তদন্তের পক্ষে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রমাণও নেই। কোনো আইনপ্রণেতাকে তদন্তের আওতায় আনতে হলে অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে এক হাজারের বেশি অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে শিন বেত। কিন্তু একটিকেও বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়নি।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে এ-সংক্রান্ত মাত্র একটি তদন্ত শুরু হয়েছিল। নেতানিয়াহুর জোট নির্বাচনে হেরে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়ার পর বাকি তদন্তগুলো শুরু হয়।
শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি গত বছর নেতানিয়াহুর নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁর কট্টর ডানপন্থী অবস্থান এবং ইসরাইলের বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা রয়েছে।
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর এক সূত্র অভিযোগ করেছে, জিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সামনে আনছেন এবং ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করছেন। এতে কয়েক দশকের মধ্যে শিন বেতের প্রতি সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর শিন বেতের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সংস্থাটির উপপ্রধান। তিনি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন