শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৮ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষককে যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদাবনতি হওয়ার পর পুনরায় তাদের পূর্বের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে, ছাত্রীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের ওপর আরোপিত ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।
পদাবনতি থেকে পুনরায় আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়া দুই শিক্ষক হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের ক্ষেত্রেও।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে পুনরায় সহযোগী অধ্যাপক পদে বহাল করা হয়েছে এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছে। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পুনরায় সহকারী অধ্যাপক পদে বহাল করা হলেও আগামী দুই বছর তার কোনো পদোন্নতি হবে না, আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এদিকে, কাজী এম আনিছুল ইসলাম এখন থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে এবং যৌন নিপীড়ন ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ২০২০ সালে ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং তিন শিক্ষার্থীকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের স্বার্থে ১ অক্টোবর তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের পদাবনতি দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের অভিযোগ পুনর্বিবেচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির বিষয়টি বিবেচনা করে এবার তাদের আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মার্চে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত চলাকালে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম জানান, ‘আলী রেজওয়ান তালুকদার ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। তবে আলী রেজওয়ানকে সতর্ক করা হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনকে আগামী দুই বছরের মধ্যে পদোন্নতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এছাড়া কাজী আনিছুল ইসলামের ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটির ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে ছয় মাসের বেশি সময় বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা যায় না। কিন্তু কাজী আনিছুল ইসলামকে প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছিল, তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকবেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আমরা আগেই পেয়েছি। এ কারণে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকালে নগরীর হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের মতে, শহরের অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তবে, এর আগেই গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং নগর গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও গ্রেফতারকৃতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সকলেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে একটি বৈঠক করছিলেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া সকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানি বংশোদ্ভূত শুকি ইতোফুসা বাংলাদেশের হয়ে মাঠে অভিষেক করেছেন। ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেছেন এই উইঙ্গার। লাল-সবুজ জার্সি পরে খেলার সুযোগ পেয়ে শুকি উচ্ছ্বসিত। যদিও তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন না, তবে ইংরেজি এবং ইশারার মাধ্যমে সতীর্থদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকারে ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার নিজের অজানা অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন: গতকাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়েছে, নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
শুকি ইতোফুসা: ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গতকালের ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, এখনও কিছু জায়গায় আমার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে।
আমি আমার ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। পাশাপাশি গোল করা বা অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।
প্রশ্ন: ভেবেছিলেন প্রথম ম্যাচেই লাল সবুজ জার্সি পড়ে মাঠে নামা হবে?
শুকি ইতোফুসা: আমি আসলে কখনও এভাবে ভাবিনি, যে আমার অভিষেক হয়ে যাবে গতকাল, তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম দেশের জন্য লড়তে।
লাল-সবুজ জার্সিতে খেলে উচ্ছ্বসিত শুকি, চান গোল করতে।
প্রশ্ন: আপনার সতীর্থরা জাপানিজ বলতে পারে না, তাদের সঙ্গে কীভাবে কমিউনিকেশন করেন?
শুকি ইতোফুসা: আমি জানি যে তারা জাপানিজ বলতে পারে না। তবে আমার সতীর্থরা ইংরেজি বা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যতটুকু আমি বুঝতে পারি। এছাড়াও, কিছু সতীর্থ সবসময় আমার খেয়াল রাখে এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তাই এখন আমি মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি, কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে আছেন, তাদের মিস করেন? এবার তো মনে হয় সবচেয়ে বেশি সময় পরিবার থেকে দূরে?
শুকি ইতোফুসা: বাংলাদেশের হয়ে খেলা, একজন ফুটবলার হিসেবে আমার স্বপ্ন, আবার এটা আমার পরিবারেরও স্বপ্ন। পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরও অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনও সমস্যা নয়。
প্রশ্ন: বাসায় কেউ বাংলায় কথা বলে?
শুকি ইতোফুসা: শুধু আমার বাবা বাসায় বাংলায় কথা বলে। বাসায় বাকী সদস্যরা, মানে আমরা জাপানিজ ভাষাতেই কথা বলি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লায় শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেছিলেন।
সোনিয়া সরকার নিপার জন্মস্থান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রাম। তিনি ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের কন্যা। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয় এবং পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি, সোনিয়া সরকার নিপা জেলা ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরো বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই আজ খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এই প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”
নিজের এই অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি বলেন, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে। এ জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাব বিলুপ্তির পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। নতুন আইনে এই বাহিনী গঠন করা হলেও এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আগের মতোই রয়ে গেছে। বড় পরিবর্তন বলতে কেবল সাইনবোর্ডের নামের পরিবর্তন ঘটেছে।
বর্তমানে দাপ্তরিক সব কাজের ক্ষেত্রে ‘র্যাব’-এর পরিবর্তে ‘এসআরবি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এই বাহিনীর জন্য বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জোরেশোরে। পাশাপাশি তাদের লোগো, পোশাক এবং পতাকায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তন করে নতুন সংস্থা গঠন করা হলেও সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হবে না।
জানা গেছে, এসআরবির নেতৃত্ব, জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল অবকাঠামো এবং কার্যক্রম-এসব কিছু এসআরবিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। নতুন আইনে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি কার্যক্রম, গ্রেফতার, জব্দ, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ পরিচালনাসহ যেসব ক্ষমতা এসআরবিকে দেওয়া হয়েছে, তা অনেকটা র্যাবের ক্ষমতার মতোই। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসআরবিকে আগের প্রতিষ্ঠানের উত্তরসূরি হিসাবেই দেখবে। নতুন নামে পরিচালিত হলেও সংস্থাটি পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিমুক্ত থাকবে-এমনটি নাও হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। তাদের মতে, এসআরবিও র্যাবের মতো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকবে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর অধীনে নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাহিনীটি পুরোনো এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯) অধ্যাদেশের আইনি বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। র্যাবের কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যুক্ত করা। নতুন এসআরবি আইনেও সশস্ত্র বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফ থেকে সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীটির পুরোনো জনবল, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতা বহাল রেখে কেবল নাম ও আইন পরিবর্তন করায় এর কার্যক্রমে মৌলিক কোনো রূপান্তর ঘটার সুযোগ সীমিত।
সরকারের দাবি, নতুন আইনের কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির বিধান জারি থাকলে অতীতে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হবে। এসআরবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের যে কোনো ধরনের হয়রানি বা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, আগের সব বিতর্কিত সংস্কৃতি পরিহার করে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এসআরবি কাজ করবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নাম পরিবর্তন করে নতুন সংস্থা গঠন করা হলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হবে না। তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে কোনো সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি বা তা প্রত্যাহার করা একটি দীর্ঘ ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। কেবল নাম পরিবর্তন বা নতুন নামে সংস্থা পুনর্গঠন করলেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় না।
তিনি আরও জানান, নতুন সংস্থা এসআরবির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সংস্থাটির কার্যক্রম ও আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, কাগজ-কলমে র্যাব বিলুপ্ত হলেও এসআরবি মূলত নতুন মোড়কে পুরোনো বাহিনী। র্যাব এবং এসআরবির মধ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসআরবিকে র্যাবের উত্তরসূরি হিসাবেই বিবেচনা করবে। সামনের দিনগুলোতে এসআরবির কর্মকাণ্ডের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে তিনি জানান।
এসআরবির মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান হাবীব পলাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘র্যাবের নাম পরিবর্তন হয়ে এসআরবি হলেও কাজের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত বা পরিবর্তন ঘটেনি। কাজ আমরা ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছি। নতুন আইনের মাধ্যমে আমাদের কাজের গতি বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘২৪-এর জুলাইয়ের পর থেকে আমাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা রয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি। বিদেশি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিষয়ে আমরা বেশ আশাবাদী।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দানবে পরিণত হয় র্যাব: ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়। ওই সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও বিডিআরের সমন্বয়ে এই ‘এলিট ফোর্স’ গঠন করা হয়। শুরুর দিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভয়ংকর জঙ্গিদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারে এই বাহিনী সফলতা অর্জন করায় সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অপরাধ দমনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, ভিন্নমত হরণ এবং ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা শুরু হয়। বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি চালু করা হয়। র্যাব বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি গোপন বন্দিশালা বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে, যা পরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এসব স্থানে চরম অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এই বাহিনীর সদস্যদের কোনো ধরনের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়নি। হত্যার জন্য এক প্রকার অবাধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এই বাহিনীকে। লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর তৎকালীন ও সাবেক বেশকিছু কর্মকর্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরই দেশজুড়ে র্যাবের তৎকালীন বেপরোয়া কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর র্যাবের ভূমিকা নিয়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও গুম কমিশনের পক্ষ থেকে এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার জোরালো সুপারিশ করা হয়।
র্যাবের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং হেফাজতে নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ র্যাবকে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। র্যাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও নিয়মিত অভিযোগ ছিল, তৎকালীন সরকারের বিরোধী বলে পরিচিত বা সন্দেহভাজনদের আটকের পর ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা এবং পরে সেগুলোকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসাবে চালিয়ে দেওয়া। বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সরকারের সমালোচকদের সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে র্যাবের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন বা বছরের পর বছর তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো। আটককৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, বৈদ্যুতিক শক দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো।
কোন সরকারের আমলে কত অপকর্ম: ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে র্যাব গঠনের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত ২০ বছরে ৩ হাজার ৬৯৯ জনকে হত্যা করে র্যাব। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরেই হত্যার শিকার হন ২ হাজার ৬৯৯ জন। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’র হিসাবে ২০১৮ সালেই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের নামে দেশজুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৪৬৬ জন এবং গুম করা হয় ৬৭৭ জনকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ