প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী প্রধান সংঘাতস্থলে পরিণত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে, যা তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অপরিহার্য, বহু বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানায়, উপসাগর এবং এর আশপাশের জলসীমায় মোট ৬৮টি ঘটনা ঘটেছে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থাটি জানায়, এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন, ৩৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনাগুলোর প্রায় অর্ধেক তেলবাহী ট্যাংকারে ঘটেছে। কনটেইনারবাহী জাহাজের ঘটনায় ২০ শতাংশ এবং বাল্ক ক্যারিয়ারে ১৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ৪৭টি ঘটনার মধ্যে হামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১৩টি হামলা হয়েছে। পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের পতাকাবাহী জাহাজে চারটি হামলা হয়েছে।
যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব ঘটনার হার পরিবর্তিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে শান্তি আলোচনা শুরুর কাঠামো নিয়ে একটি চুক্তি হওয়া পর্যন্ত গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৩ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে।
এই সময়ে ১৬ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। উপসাগরজুড়ে এসব ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হরমুজের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল এবং ইরাক, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শান্তি আলোচনা চলাকালীন, প্রায় ৭ জুলাই পর্যন্ত, ঘটনার হার অর্ধেকে নেমে আসে। তখন গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ৬ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে।
এই সময়ে কোনো নাবিক বা অন্য কর্মী নিহত, নিখোঁজ বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এই সময়ের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটি প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছে ওমানের উপকূলের কাছে ঘটেছে। এই পথ ব্যবহারের অনুমতি ইরানি কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
যুদ্ধের পরও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের আশা করছে ইরান। দেশটি বিকল্প এই পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ঘটনার হার আবার আলোচনার আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৮ দিনে একটি ঘটনা ঘটছে।
এর ফলে চারজন নাবিক বা কর্মী নিহত, ১৬ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন