প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরোপ যদি তাদের জরুরি জ্বালানি মজুদ (ডিজেল স্টক) থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ব্যর্থ হয়, তবে ডিজেল রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন 'সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান' করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আন্না-কাইসা ইতকোনেন এই বিষয়ে ইইউর কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার এই হুমকি কোনো পক্ষকেই সুফল দেবে না। এমন সিদ্ধান্ত একটি নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের যে আস্থা রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে।”
সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশন জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইইউ’র 'অয়েল কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ'-এর পরবর্তী বৈঠক আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে এই মিটিং আগেই ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও প্রেক্ষাপট:
ইরান সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, ইউরোপ যদি ডিজেলের উর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে তাদের আপদকালীন স্টক থেকে জ্বালানি সরবরাহ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধের কথা ভাবা হতে পারে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় মিত্রদের অবিলম্বে জরুরি জ্বালানি মজুদ ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই ইউরোপের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আটলান্টিকের দুই পাড়ের শক্তিশালী মিত্রদের মধ্যে এই জ্বালানি সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন