প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে রাতে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ডিএপি সার আটক করেছে স্থানীয়রা। মালিকবিহীন এই আটককৃত সার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করার পর বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার দুবলহাটিতে অবস্থিত সারের অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স। মঙ্গলবার রাতে ওই ডিলার পয়েন্টের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার গোডাউন থেকে দুটি ভটভটিতে ১২০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে গাড়ি দুটি থামিয়ে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নসিমনের চালকেরা প্রথমে ওই ইউনিয়নের ইণ্টিতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে জেরার মুখে স্বীকার করে যে সারগুলো রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সার সংকটে ভুগছে, আর স্থানীয় ডিলার অধিক মুনাফার লক্ষ্যে সার অন্য জেলায় পাচার করছে- এমন খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি দুটি আটক করে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশকে খবর দেয়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া এলাকার কিছু মানুষ ফোনে সার পাচারের বিষয়টি জানালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বস্তা ডিএপি সার দুটি ভটভটি নামক গাড়িতে পান। যেহেতু সারগুলোর মালিককে পাওয়া যায়নি, সেহেতু সারগুলো জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত সার বুধবার ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সারগুলো কোন ডিলারের নামে বরাদ্দ করা ছিল, সেই ডিলারের বিরুদ্ধেও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অরাজকতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন জানান, শতাধিক বস্তা সার অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ৬০ বস্তা করে দুটি গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে সারের ডিলার কিংবা তাঁর কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে না পাওয়ার কারণে সার আইন-২০০৬ অনুসারে সারভর্তি ভটভটি দুটি জব্দ করে দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ১২০ বস্তা সার সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ওই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়। আর সার বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়মকে মেনে নেওয়া হবে না। আগামীতে কোনো ডিলার কিংবা সার ব্যবসায়ীরা সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন