প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বড় অঙ্কের অর্থের প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার জাতীয় দলের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের কাছ থেকে দুই বছরের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব পেয়েও ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
স্যান্টনারের সামনে একটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি রয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিন সংস্করণের সিরিজ খেলতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজও রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তি ও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনা করছেন। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণের ইচ্ছা তার রয়েছে। সুযোগ পেলে নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার স্যান্টনারের সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিত্ব ও দলপ্রেমের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্যান্টনারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে ওয়াল্টার বলেন, "আমার কাছে এটা একজন মানুষের চরিত্রের মাপকাঠি। অন্য কাউকে বিচার করার জন্য নয়, তবে মিচের ক্ষেত্রে দলকে সবার আগে রাখার বিষয়টি তার চরিত্রই তুলে ধরে।"
স্যান্টনারের কাছে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ওয়াল্টার। তার মতে, দেশের নেতৃত্ব দেওয়াটা স্যান্টনারের কাছে বিশেষ কিছু। সামনে থাকা টেস্ট সিরিজগুলোতেও দলের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে তার।
ওয়াল্টার বলেন, "দেশের অধিনায়কত্ব তার কাছে কী অর্থ বহন করে, সেটা আমি জানি। সামনে যে টেস্টগুলো আছে, সেগুলোর অংশ হওয়ার ইচ্ছাটাও তার প্রবল। তাই বিষয়টি কারও কাছে অবাক করার মতো হলেও আমার কাছে নয়।"
জাতীয় দলের প্রতি স্যান্টনারের এই অগ্রাধিকার নতুন নয়। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব ধরে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে চান তিনি। তাই দীর্ঘ মেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পথ বেছে নেননি।
তবে নিউজিল্যান্ডের সব ক্রিকেটার একই পথে হাঁটছেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ ধরে রাখতে ভিন্ন ধরনের চুক্তি বেছে নিয়েছেন ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট, লকি ফার্গুসন, মার্ক চ্যাপম্যান ও অ্যাডাম মিলনের মতো ক্রিকেটাররা। ডেভন কনওয়ে ও ফার্গুসনও নমনীয় চুক্তির ব্যবস্থায় গেছেন।
অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে এখন জাতীয় দলকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এবং তুলনামূলক বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার দুই ধরনের পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না ওয়াল্টার। বিশ্বের বিভিন্ন লিগে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ বলেও মনে করেন তিনি।
ওয়াল্টারের ভাষায়, "আমাদের খেলোয়াড়রা যখন স্বীকৃতি পায়, আমি খুশি হই। ক্রিকেট যেদিকে এগোচ্ছে, এটা তারই বাস্তবতা।"
তবে সবকিছুর ওপরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগ্রহ ধরে রাখাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নিউজিল্যান্ডের কোচ। তার মতে, ক্রিকেটারদের দেশের হয়ে খেলার ক্ষুধা ধরে রাখতে হবে এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের ঘর মনে করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন