প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ব অর্থনীতির সুদের হার নির্ধারণে। বাজারে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে পারে।
ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)-র ১২ জন ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য বৈঠকের পর বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন।
এএফপি’র খবর অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তাঁর শুল্কনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চলমান উত্থানের ফলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানুয়ারি থেকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তারা জ্বালানির দামের প্রভাব এবং শুল্কের ফলে পণ্যের দামে কীভাবে পরিবর্তন আসছে, তা বুঝতে অপেক্ষা করছে।
তবে জুলাইয়ের সর্বশেষ বৈঠকে কমিটির সদস্যদের এক-চতুর্থাংশ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে সমর্থন দেন।
ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শসহ কয়েকজন নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে না কমলে ফেডকে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় হার অপরিবর্তিত থাকলেও এটি ফেডের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
এই তথ্য চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯২ শতাংশের বেশি ধরে নিয়েছেন।
কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক মন্তব্য করেন, ‘এটি নীতিতে বড় পরিবর্তন, তবে বিস্ময়কর নয়। মূল্যস্ফীতি এখনও ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণের অংশ হয়ে উঠছে—ঠিক যে বিষয়টি অবশ্যই ফেডকে প্রতিরোধ করতে হবে।’
আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
বুধবার ফেড যদি সুদের হার বাড়ায়, তাহলে ২০২৩ সালের পর এটি হবে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত। তখন মহামারির পর উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সুদের হার কমানোর জন্য তিনি স্বাধীন এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নজিরবিহীন চাপ দিয়ে আসছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ফেডের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাম্প নিয়মিতভাবে পাওয়েলকে অপমান ও সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি ফেডের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্তের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট সুদের হার বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন। তবে তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হোয়াইট হাউস সেটি সম্মান করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন