প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব করতে সরকার ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ২.০ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশজুড়ে এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন এবং বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন।
কামরুজ্জামান বলেছেন, ২০০১ সালে সংস্কার কার্যক্রম হিসেবে শুরু করা সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বর্তমানে দেশের ডিজিটাল সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। এই খাতে সংস্কার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৩ সালের সরকারি ক্রয় প্রবিধানের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সংস্কার শুরু হয়। পরে ২০০৬ সালে সরকারি ক্রয় আইন এবং ২০০৮ সালে সরকারি ক্রয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ, ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালা এবং সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার আরও অগ্রগতি ঘটানো হয়েছে।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটকে (সিপিটিইউ) একটি স্বায়ত্তশাসিত নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এতে করে সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিপিপিএ প্রধান বলেন, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরো আধুনিকীকরণে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারি ক্রয়ের পরিধি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যরূপে বেড়েছে বলেও কামরুজ্জামান জানান। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে সরকারি ক্রয়ের বার্ষিক বাজার ছিল প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারে। বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ক্রয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরি করাটা খুবই প্রয়োজন।
এই লক্ষ্যে সামনে রেখে সম্প্রতি বিপিপিএ তিনটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করেছে। এসব কর্মশালায় ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও বিপিপিএ’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ ও ক্রয় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পাওয়া গেছে বলে জানান বিপিপিএ প্রধান।
টেকসই ক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়কে শুধুমাত্র ব্যয় সাশ্রয়, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারবে না। এটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করার একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তার মতে, সরকারি ক্রয়ব্যস্থায় টেকসই উন্নয়নের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা, পরিবেশবান্ধব এবং জলবায়ুসহনশীল ক্রয়ব্যবস্থার প্রসার, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা দেওয়া, ডিজিটাল ক্রয়ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিপিপিএ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রগতি তুলে ধরে কামরুজ্জামান জানিয়েছেন যে, ২০১০ সালে একটি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গড়ে প্রায় ১০০ দিন সময় লাগত। বর্তমানে তা কমে ৫৪ দিনে নেমে এসেছে।
ই-জিপি চালুর আগে মূল দরপত্রের মেয়াদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতো। বর্তমানে এই হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এছাড়া, চুক্তি প্রদানসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হার ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে শতভাগে পৌঁছেছে। একইভাবে, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হার ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে শতভাগে উন্নীত হয়েছে।
বিপিপিএ প্রধান বলেন, এসব পরিবর্তনের ফলে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন