প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মালদ্বীপ প্রবাসীর স্ত্রী ও কন্যাকে লোহার হাতল দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যাশিশুটির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত ও চারটি দাঁত ভেঙে গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি (উত্তরপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামিদুল ও তার স্ত্রী তামান্না সুলতানার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রী মিনি বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সোমবার বিকালে প্রতিবেশী হামিদুল ও তার স্ত্রী তামান্না মিলে মালদ্বীপ প্রবাসী বাবুল সরকারের স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে। একপর্যায়ে তারা লোহার খুন্তির হাতল দিয়ে মিনি বেগমকে মারধর করে। এসময় তাকে বাঁচাতে গেলে তার কন্যা জান্নাতি আক্তার বর্ষাকে অভিযুক্তরা খুন্তির লোহার হাতল দিয়ে তার মুখে স্বজোরে আঘাত করে। এতে জান্নাতির মুখের চারটি দাঁত ভেঙে যায়, ঠোঁট কেটে যায় এবং বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে৷ তখন পুত্রবধূ ও নাতনিকে বাঁচাতে শ্বশুর হাদিউল করিম এগিয়ে আসলে তাকেও ইট মাথায় আঘাত করে। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে দুই হাতেও আঘাত পান৷ পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী জান্নাতি আক্তার বর্ষা বলেন, হামিদুল ও তামান্না মিলে আমাকে মারধর করেছে। আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছে৷ আমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আমার ঠোঁট রক্তাক্ত করেছে, চারটি দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে৷ আমি তো একজন স্টুডেন্ট। আমার তো পড়ালেখা করা লাগবে৷ আমি এর বিচার চাই, দোষীদের শাস্তি চাই। আমার মত আর কোনো মেয়ের সাথে যেন এমন না হয়। তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে পুলিশের কাছে জানালে আমাদের হত্যা করা হবে৷ আমরা নিরাপদভাবে বাঁচতে চাই। পুলিশদের এ দায়িত্ব নিতে হবে।
ভুক্তভোগী মিনি বেগম বলেন, আমি ক্যান্সারের রোগী। একমাস হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগচ্ছি। তবুও ওরা আমাকে কোনো ছাড় দেয়নি। তারা আমাকে মারে, তখন আমার মেয়ে বাঁধা দিতে গেলে তাকেও মারে। মেয়ের গলায় থাকা আট আনার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। আমার মেয়ের বয়স চৌদ্দ বছর। সে বুড়াবুড়ি আজিতুল্যা সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তার তো বিয়ে দিতে হবে। তাকে মারধর করে চারটি দাঁত ভেঙে দিছে। আমি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমার মেয়ের এমন অবস্থার দায়ভার দোষীদের নিতে হবে৷
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন