প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য আন্তর্জাতিক পর্যটনের মুসলিমবান্ধব গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যটিতে শুরু হয়েছে পঞ্চম বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলন (ডব্লিউআইটিসি) ২০২৬।
এ সম্মেলনে ৩৫টিরও বেশি দেশের দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীদাররা অংশগ্রহণ করছেন। এই সম্মেলন নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন অর্থনীতির বিকাশের পথ তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাহাংয়ের কুয়ানতানে জেনিথ হোটেলে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) সম্মেলনটি আয়োজন করেছে। এতে আনুষ্ঠানিক সহযোগী ও আয়োজক হিসেবে রয়েছে পাহাং রাজ্য সরকার।
সম্মেলনে পাহাং রাজ্যের কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, জীবপ্রযুক্তি ও শিক্ষা বিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী ইর হাজি মোহাম্মদ সোফি তান শ্রী আবদুল রাজাক বলেন, "এ আয়োজন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাহাংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পর্যটন খাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাহাংয়ে পর্যটনের পাশাপাশি কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতের উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় উদ্যোক্তা, হোমস্টে পরিচালনাকারী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হবে।
রাজ্য সরকারের ‘পাহাং ফার্স্ট’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজ্যের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রতিটি পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোজদি ওয়ান ইসমাইলের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ সোফি। তিনি মুসলিমবান্ধব পর্যটন খাতের বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার, ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার, পর্যটনশিল্পের উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।
‘সীমান্তের ঊর্ধ্বে বিশ্বাস ও পরিবার’ (ফেইথ অ্যান্ড ফ্যামিলি বিয়ন্ড বর্ডার্স) প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে বলা হয়, পর্যটন কেবল কোনো স্থানে ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচিতি এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৫ ও ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নিয়ে ১৩টি আলোচনাপর্ব রাখা হয়েছে। এতে নতুন পর্যটন বাজার, ওমরাহর ভবিষ্যৎ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), হালাল খাদ্যসংস্কৃতি, ইসলামি ঐতিহ্য এবং মুসলিমবান্ধব পর্যটন স্বীকৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।
সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, মুসলিমবান্ধব পর্যটনশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিসর বাড়াতে চারটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাহাং পর্যটন বিভাগ এবং কিংস পার্ক গেন্টিং হাইল্যান্ডসের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্য হচ্ছে পাহাংয়ের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গেন্টিং হাইল্যান্ডসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।
অন্যদিকে, ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার, কিংস পার্ক গেন্টিং হাইল্যান্ডস এবং রিতা সিনার্জি হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডির মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় গেন্টিং হাইল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক মানের উন্নত মুসলিমবান্ধব পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া কানাডাভিত্তিক হালালি অ্যাপ লিমিটেডের সঙ্গে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের চুক্তিতে ডিজিটাল সমন্বয় ও বৈশ্বিক প্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চীনের হালাল সার্টিফিকেশন সার্ভিসেস (চংকিং) কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অপর সমঝোতায় মুসলিমবান্ধব নিশ্চয়তা স্বীকৃতি কর্মসূচি (এমএফএআর) বাস্তবায়ন এবং চীনে সংশ্লিষ্ট খাতের সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার পর্যটনবিষয়ক উপসচিব চুয়া চুন হোয়া, পাহাং রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান লিওং ইউ মান, পাহাংয়ের ওরাং কায়া ইন্দেরা পাহলাওয়ান দাতো শ্রী হাজি ওয়ান আবদুল ওয়াহিদ ওয়ান হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে মুসলিমবান্ধব পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন