প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানে অবস্থিত দু’টি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশনায় পরিচালিত ইনভেন্টরি কার্যক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় ২৬০ ধরনের পণ্য ও মূল্যবান সামগ্রীর সন্ধান পেয়েছে।
গত রোববার ও সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী, বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ঘড়ির আনুষঙ্গিক সামগ্রী, শতাধিক স্যুট-টাই, ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তকারী দলের সদস্য, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গুলশান থানার পুলিশ এবং ভবন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর ভবনের ৭এ ও ৭বি ফ্ল্যাটে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে ছিল।
ইনভেন্টরি তালিকা অনুযায়ী, দুই ফ্ল্যাটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২৭৬টি টাই, ১৪০টি স্যুট, ৯১টি শার্ট, ৫৩টি প্যান্ট, ১৩টি পাঞ্জাবি, ১২টি লুজ প্যান্ট, পাঁচটি ট্রাউজার, ৪০টি ব্যবহৃত সালোয়ার-কামিজ, পুরুষদের তিনটি ওভারকোট, নারীদের দু’টি ওভারকোট, সাতটি সানগ্লাস, একটি আলেকজান্ডার ম্যাককুইন ব্র্যান্ডের জুতা, একটি লেডিস হ্যান্ডব্যাগ, সাতটি বেল্ট, তিনটি মুক্তার মালা এবং একটি বোর্নিও পার্লস পাওয়া গেছে।
তালিকায় বিলাসবহুল ঘড়ির আনুষঙ্গিক সামগ্রীর সম্মিলনে রয়েছে চারটি রোলেক্স ঘড়ির খালি বক্স, একটি ব্যবহৃত নষ্ট রোলেক্স ঘড়ি, চারটি প্যাটেক ফিলিপ ঘড়ির খালি বক্স, একটি প্যাটেক ফিলিপের সার্টিফिकेट, একটি অডেমার পিগে ঘড়ির খালি বক্স, একটি অডেমার পিগের ওয়ারেন্টি কার্ড, একটি ভাসন কনস্ট্যান্টিন ঘড়ির বক্স, একটি পারমিজিয়ানি ফ্লুরিয়ের ঘড়ির খালি বক্স, দু’টি জ্যাগার-লেকুলত্র ঘড়ির খালি বক্স, একটি ব্রেগুয়ে ঘড়ির খালি বক্স এবং একটি এলইউসি ব্র্যান্ডের ঘড়ির খালি বক্স। এছাড়া পাওয়া গেছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ল্যান্ড রোভার, টয়োটা ও ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডের পাঁচটি গাড়ির চাবি।
প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রিচুয়ালস ব্র্যান্ডের তিনটি পারফিউম, দু’টি ফেব্রিক স্প্রে, ছয়টি কার এয়ার ফ্রেশনার, দু’টি স্টেইন রিমুভার, একটি স্মার্ট ব্যান্ড, একটি ইলেকট্রিক আয়রন, একটি ইলেকট্রিক লাইটার, ৯টি জিলেট ব্লেডসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি প্লে-স্টেশন (পিএস-৫), একটি ৫৫ ইঞ্চি সনি টেলিভিশন, একাধিক ডাইকিন, জেনারেল ও গ্রি ব্র্যান্ডের এয়ার কন্ডিশনার, একটি ফ্রিজ, একটি ডিপ ফ্রিজ, একটি ওয়াশিং মেশিন, একটি মাইক্রোওভেন, একটি টোস্টার, একটি ইলেকট্রিক কেটলি, একটি ট্রেডমিল, একটি ওয়েট মেশিন, তিনটি ব্লাড প্রেসার মেশিন, দু’টি পালস অক্সিমিটার, একটি রাউটার এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
এছাড়া দুই ফ্ল্যাটে একাধিক কিং সাইজ বেড, সোফা সেট, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, ওয়ারড্রোব, স্টিলের ভল্ট, শোকেস, সেন্টার টেবিল, ঝাড়বাতি, ওয়াল মিরর, কার্পেট, পর্দা, ফুলদানি, শোপিস, ট্রলি, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্রের পাশাপাশি কাচের গ্লাস, সিরামিক কাপ-প্লেট, বাটি, জগ, ট্রে, রান্নার কড়াই, দা-বটি, হটপট, ফ্লাস্ক, কাপড় শুকানোর হ্যাঙ্গার এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বাসস-কে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দকৃত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ইনভেন্টরি প্রস্তুতের এই পুরো কার্যক্রম শেষে তা আদালতে দাখিল করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন