প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার জলাশয়, খাল, বিল, নদী, ও নদনদীতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারী জাল। এই জালের সূক্ষ্ম সুতা জলাশয় থেকে ছোট মাছ, ডিম, রেণু পোনা নির্বিচারে তুলে নিচ্ছে সুবিধাবাদীরা। শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, কাছিম, সাপ, ব্যাঙ, সহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও কীটপতঙ্গও এই জালের ফাঁদ থেকে বাদ যাচ্ছে না। পাবনার পদ্মা, যমুনা, বড়াল, চলনবিল, গাজনার বিল, ডিকশির বিল, হাদল বিল, খাল, পুকুর, মুক্ত জলাশয়, পানিতে ডোবা খোলা জায়গায় ব্যাপকভাবে এই সর্বনাশা জালের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে।
সুবিধাবাদীদের মাছ শিকারের এই প্রবণতা দেশীয় মাছকে মাছে ভাতে বাঙালির পাত থেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পাবনা সদরের দিয়া রাজাপুর এলাকার একটি মুক্ত জলাশয়ে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন মোঃ মানিক। তিনি ইনকিলাবকে জানান, "এখানে পানি আছে, মাছ নেই। চায়না জালের কারণে আগের মত মাছ পাই না।"
স্থানীয় জেলেরা জানান, একসময় এখানে যে পরিমাণ কৈ, পাবদা, টেংরা, টাকি, বোয়াল, শিং, মাগুর, সহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, বর্তমানে তার অর্ধেকও নেই।
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার রহিমপুর গ্রামে নাম প্রকাশে অনচ্ছুক চায়না দুয়ারী জালে এক মাছ শিকারি ইনকিলাবকে জানান, "অন্য জালের চেয়ে এই জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ আটকায়।" তবে তিনি মনে করেন, চায়না জালে মাছ শিকারে সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরেজমিনে চলনবিল, ডিকশির বিল, খলিশাগাড়ি বিল, হাদল বিল ও গাজনার বিল ঘুরে দেখা যায়, পানির নিচে অসংখ্য চায়না জালের ফাঁদ পেতেছে সুবিধাবাদীরা।
চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর উপজেলার মো আনোয়ার ইনকিলাবকে জানান, "কয়েক বছর আগেও বিলে বড় সাইজের বোয়াল, শৈল, টাকি, গজার, পাবদা, ট্যাংরা, বাইম সহ নানা রকমের ছোট মাছ পাওয়া যেত। এখন বিলে আগের মতো মাছ নেই।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "বিলে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার ঠেকানো না গেলে কিছুদিন পর খাল বিলে আর মাছ পাওয়া যাবে না।"
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। শুধু কারখানাতেই নয়, সুবিধাবাদী মানুষ ঘরে বসেই এই ভয়ংকর জাল তৈরি করছে।
পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল ইনকিলাবকে বলেন, "পাবনার খাল বিল জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার ব্যাকপভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সুযোগসন্ধানীরা ভবিষ্যতের কথা না ভেবে এই জালের ব্যবহার করছে।" তিনি জানান, "চায়না দুয়ারী জালের ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।"
চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতার উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "জেলার আইনশৃঙ্খলার সভায় বিষয়টা উত্থাপন করা হবে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শুক্রবার জুমার সময় চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহারের মারাত্মক দিকগুলো তুলে ধরা নিয়ে আলোচনা করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন