বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:০২ পি.এম
একদিকে মাঠে ফলানো আলুর জন্য ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সার-বীজ ও কীটনাশকের ব্যয় মিটিয়েও কৃষক বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া তাদের লোকসানের বোঝা আরও ভারি করে তুলছে।
কৃষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলু ফলানোর লাভের হিসাব এখন আর মুখ্য নয়, বরং তাদের চিন্তা হচ্ছে কতটা লোকসান কমানো যায়। এ পরিস্থিতিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে জেলা সুপারিশ কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। এ সুপারিশের বাইরে একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ও প্রয়োজনে আইনগত লড়াইয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও সংগঠনের সদস্য মিঠু হাজী বক্তব্য দেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতা এবং আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর জন্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় তাঁরা মেনে নেবেন না।
সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের লক্ষ্যে পৃথক সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার সুপারিশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত এলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াই চালানো হবে। হিমাগার মালিকেরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিলে কৃষকরাও তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালতে যাবেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকেরা যোগসাজশ করে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এবং হিমাগার ভাড়া বাড়ায় কৃষকের লোকসান আরও বেড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও হিমাগার মালিক পক্ষের অসহযোগিতার মধ্যেও জেলা সুপারিশ কমিটি একটি প্রায় নিরপেক্ষ সুপারিশমালা তৈরি করেছে। সুপারিশের কিছু বিষয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভিন্নমত থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা তা মেনে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনের ৮ নম্বর কলামে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিবেদনেও গড়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও হিমাগার মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে যৌক্তিক ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সমিতির সহ-সভাপতি আলু চাষি মিজানুর রহমান মিলন বলেন, স্টোর ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। আমরা চাই যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
সমিতির সদস্য আলুচাষি মিঠু হাজী বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও ভোক্তার ওপর। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন না।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় প্রতিবছর বাড়ছে। এর সঙ্গে হিমাগারের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ এবং ব্যবসায়ীদের সংরক্ষণ ব্যয় আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে আলুর বাজারদরেও। তাই কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা- তিন পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত হিমাগার ভাড়া চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আলু শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; উত্তরাঞ্চলের হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। তাই হিমাগার ভাড়া নির্ধারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে কৃষক তার উৎপাদন খরচ অন্তত তুলতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরাও ন্যায্যভাবে পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারেন। জেলা সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি বিশাল জলস্রোত, কাদা ও পাথরের প্রাচীর যখন গর্জন করে ধেয়ে আসছিল, তখন নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল একটি সদ্য নির্মিত বাড়ির বাইরে শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধ্বংসাত্মক ঢল তাঁকে এবং আশেপাশের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তবে অলৌকিকভাবে একটি আমগাছে আটকে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই যুবক মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন।
বুধবার, চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রসিকোয়া জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাটিতে কাজ করছিলেন কুমাল। হঠাৎ করেই তিনি একটি ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনতে পান। প্রায় পাঁচ ফুট গভীর গর্তের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর চারজন সহকর্মী তাঁকে চিৎকার করে দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু যখন তিনি গর্ত থেকে উঠে আসার পথ খুঁজছিলেন, ততক্ষণে তাঁর সহকর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কুমাল জানান, তিনি দৌড়াতে শুরু করতেই যেন ভূমিকম্পের মতো শব্দে এক বিশাল পানির দেয়াল ধেয়ে আসে। সেই জলের তোড়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে তিনি ভাটির দিকে ভেসে যেতে থাকেন। তবে ভাগ্যের জোরে তিনি একটি আমগাছে আটকে যান। তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন যে, সেদিন যদি সেই আমগাছটি সেখানে না থাকত, তবে ভেসে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই তাঁর মৃত্যু হতো। গাছে আটকে থাকার সময় তিনি নিজের চোখে দেখেন যে বাড়িতে তিনি কাজ করছিলেন সেটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। পানির আঘাত এবং একটি বড় পাথরের চোট লেগে তাঁর ডান পা জখম হলেও অন্য এলাকায় থাকা তাঁর নিজের বাড়িটি ভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছে।
এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু বিদেশি পর্যটকসহ আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত সীমান্তে ধস নেমে একটি নদীতে কাদা ও পাথর পতনের পর সৃষ্ট এই বন্যা ভাটির বহু জনপদ ও অবকাঠামো এক লহমায় ধ্বংস করে দেয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ফুটেজে দৃশ্যমান সময়সূচীর ঠিক সাত মিনিট আগে এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা এই ভূমিধসের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন কুমালের পাশে রয়েছেন তাঁর ভাই দিনেশ। কুমালের পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহতকে উদ্ধার করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১১৪ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কাঠমান্ডু ও রসিকুয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
অত্যন্ত পাহাড়ি দেশ নেপালে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধস নিত্যদিনের ঘটনা। এর আগে কিশোর বয়সেও কুমাল ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছিলেন, যেখানে প্রায় ৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
আমগাছে বেঁচে যাওয়া কুমালের ঠিক সামনের বিছানায় চিকিৎসাধীন ১১ বছর বয়সী রীহানা লামিছানে। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হয় ছোট মেয়েটি। সে জানায়, পরিস্থিতির কারণে তাঁদের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ করেই বন্যার পানি প্রচণ্ড বেগে ছুটে আসে। বুকে ও পায়ে আঘাত পেলেও মেয়েটি বেঁচে থাকার আনন্দে উৎফুল্ল, যদিও তার সাথে থাকা বন্ধুদের কী পরিণতি হয়েছে তা সে জানে না। রীহানার মা রীতা খবর পেয়ে দৌড়ে এসে মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে জানান, মেয়ের মারাত্মক কিছু না হওয়ায় তিনি অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
এই তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
লাল সতর্কতা হলো দেশের আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গাছের চারা রোপণ করা যথেষ্ট নয়, বরং রোপণের পর এসব চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা আবশ্যক। গাছগুলো যখন বেড়ে উঠবে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত দুর্যোগের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
গতকাল বুধবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা সরকারি কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মোংলা সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। চারা রোপণের পর তিনি দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এরপর শেখ ফরিদুল ইসলাম মোংলা পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পুকুর পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। তিনি সরকারি টি এ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কে এম রব্বানী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সফলতার জন্য রোপণকৃত প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সাইবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চীনভিত্তিক হ্যাকার দলের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দলটি মার্কিন বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ সফল হয়েছে, বেশিরভাগ প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, কিউস্ক্যান এবং কিউটিরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত সাইবার হামলা অভিযানে এই দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আরও চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের নিশানায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউস্ক্যান ও কিউটিরাউটার পরিচালনা করত চীনভিত্তিক নানজিয়াং জিনজিওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি এবং দেশটির সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ রয়েছে।
তবে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ইমেইলে জানান, মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে চীন সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করে বলে জানান তিনি।
চীনা মুখপাত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সাইবার নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে চীনকে কলঙ্কিত বা হেয় করার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপের অজুহাত হিসেবে ওয়াশিংটন এটি ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার কথা জানান।
২০১৮ সাল থেকে নজরে মার্কিন নেটওয়ার্ক
মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকেই হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে প্রবেশের জন্য নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। তবে তাদের সব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
২০১৯ সালের আগস্টে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তিনটি অজ্ঞাতনামা গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
এফবিআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এনএসএ এবং ইউএস সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় গত কয়েক বছরের বেশ কয়েকটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও রয়েছে।
তবে হ্যাকারদের তৎপরতা শুধু তথ্য চুরিতে সীমাবদ্ধ ছিল না বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। বিভিন্ন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত করতে স্ক্যান চালানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন সিনেট ও একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো সাইবার ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এ বিষয়ে প্রশ্নের জন্য বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগও অতিরিক্ত তথ্য জানতে পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ