প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরে হাতি-মানুষের সংঘাত কমানোর জন্য একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হাতির চলাচলের পথে ১৫টি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। হাতি যখন লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। এই খবর পেয়ে বন বিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন।
পাহাড় থেকে হাতি লোকালয়ের দিকে আসার খবর পেতে আগে হাতির দেখা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এই সময়ের মধ্যে হাতির পাল ঘরবাড়ি কিংবা ফসলের মাঠে পৌঁছে যেতে পারতো। এতে প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তো। তবে বর্তমানে বনবিভাগের কর্মকর্তারা অফিসে বসেই হাতির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছেন। বন্যহাতি লোকালয়ে আসার আগেই তারা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গহিন বনের পাহাড়ি এলাকায় হাতির চলাচলের পথে পরীক্ষামূলকভাবে সমচূড়া, মধুটিলা, বুরুঙ্গা, ডালুকোণা, দাওধারা-কাটাবাড়ীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা মোবাইলে পাঠাচ্ছে। ফলে আগাম সংকেত পাওয়ায় বন বিভাগ ও ইআরটির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন। হাতি লোকালয়ে প্রবেশের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য হাতিপ্রবণ এলাকায়ও এই ক্যামেরা স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের।
নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা এলাকার ইআরটি সদস্য আরফান জানান, "ক্যামেরাগুলো লাগানোর পর এই এলাকায় হাতির আক্রমণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে গেছে। হাতির লোকালয়ে আসার আগেই আমরা সতর্কবার্তা পাই। তখন দ্রুত আমাদের ইআরটি সদস্যরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বন্যহাতিগুলো আবারও বনের ভেতর ফিরিয়ে দিয়ে আসি। ফলে হাতির আক্রমণে এখন আর মানুষের ফসল বা বাড়িঘরের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।"
ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি এলাকা গোমরা গ্রামের আনোয়ার বলেন, "আমরা পাহাড়ি এলাকায় বাস করি। আমাদের বাড়ি থেকে সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ৪০০ মিটার। আমাদের এই এলাকায় হাতির আক্রমণ অনেক বেশি। শুনেছি নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাতির আগাম সংবাদ জানতে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আগাম খবর পাওয়ায় হাতির আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। তাই আমরাও চাই আমাদের ঝিনাইগাতীর হাতির চলাচলের পথেও যেন এসব ক্যামেরা বসানো হয়। তাতে আমরাও হাতির আক্রমণ থেকে নিজেদের জানমালসহ ফসল রক্ষা করতে পারব।"
শ্রীবরদী উপজেলার আয়শা আইন উদ্দিন মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক হাবিবুল হক পলাশ বলেন, "গহিন বনের পাহাড়ি এলাকায় হাতি ফেরাতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে, শুধু ক্যামেরা স্থাপনেই সীমাবদ্ধ না থেকে পাহাড়ে জলাশয় স্থাপন ও হাতির পছন্দের খাদ্য বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে বন্যহাতিগুলো আর লোকালয়ে আসবে না।"
মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম বলেন, "ক্যামেরাগুলো লাগানোতে আমাদের হাতির চলাচলের ওপর নজর রাখা সহজ হয়েছে। হাতিগুলো বনের ভেতরে থাকতেই আমরা আমাদের মোবাইলে নোটিফিকেশন পাই। আর সঙ্গে সাথেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি। তবে আরও কিছু এআই ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন।"
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফহিম চৌধুরী জানান, "প্রাথমিকভাবে ১৫টি ক্যামেরা স্থাপন করে সফলতা পাওয়া গেছে। হাতি এবং মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে এসব এলাকায় আরও কিছু ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।"
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স ও মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় এই পাইলট প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন