প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার যদি কোনো ক্ষেত্রে গাফিলতি করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের যেই ব্যক্তি হোক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি—যদি দায়িত্ব পালন করতে অবহেলা করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা" গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন এবং "আগামীর বাংলাদেশ" শীর্ষক আলোচনা সভা।
রুহুল কবির রিজভী বইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেন, বই অন্ধকার ঘোচাতে বাতির মতো কাজ করে, এটি একটি বড় প্রদীপের মতো। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের বিকল্প নেই। বর্তমানে আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা আমাদের বক্তব্য লিখে রাখছেন—এসবই বিজ্ঞানের অবদান।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি তৈরি করেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার জন্যই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়তে পেরেছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন কিছু আবিষ্কার করেছে। সুতরাং বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, বই না পড়লে, যদি আমরা জ্ঞান অর্জন না করি এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, তাহলে আমাদের মনের জগত ও বিশ্বজগত—দুটোই অন্ধকার থাকবে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট।
এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলে, তাহলে মনের জগতের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকারকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে তারেক রহমানের সরকার সম্পর্কে। কিন্তু, এই পাঁচ মাসে সরকার কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনাবলি বইটিতে প্রতিটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। জাতি এসব জানে এবং দেখেছে। তবে সমস্ত তথ্য একত্র করে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে বিএনপির মুখপাত্র রিজভী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিনের পর দিন তিনি কাজ করছেন এবং তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিজে দেখছেন।
রিজভী পাশাপাশি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কোনো গাফিলতি করছেন না। যদি কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তাহলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সেটা আমলাতন্ত্রের মানুষ হোক বা বুরোক্রেসির লোক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি—গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা কাজ করছেন তাঁদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করছেন।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি বা জোট সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসবের বিশদ বর্ণনা বইটিতে পাওয়া যাবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার নিয়ে রিজভী বলেন, বর্তমানে যেসব ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই বই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী-এর কর্মকাণ্ড ও জনগণের প্রতি তাঁর নিবেদনসহ তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যান নিয়ে একটি গ্রন্থ রচিত হলে সেটি সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে।
তিনি জানান, তখন মানুষ জানতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসান, সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সংসদ সদস্য এডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন