প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা গেছে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ। হৃদ্যন্ত্রের প্রধান করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে তীব্র হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু ঘটে। রোববার (১১ অক্টোবর) গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ময়নাতদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
এই ৭৫ বছর বয়সী অভিনেতা গত ৮ অক্টোবর গোয়ায় নিজের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে হৃদ্যন্ত্রের বাঁ দিকের প্রধান করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে তীব্র হার্ট অ্যাটাক ঘটে। এই ধমনি হৃদ্যন্ত্রের বড় একটি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। ধমনিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হৃদ্যন্ত্রে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়, যা প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক করোনারি আর্টারি ডিজিজ হলো করোনারি ধমনির দেয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন পদার্থ জমে ধমনি সরু হয়ে যাওয়ার একটি অবস্থা। এমন ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ হঠাৎ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে এবং তীব্র হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক কারণে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর পর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
নানা পাটেকরের মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনি হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শক্তিশালী অভিনয়, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ধরন এবং বহুমুখী চরিত্রে সাবলীল উপস্থিতির জন্য দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিত ছিলেন এই অভিনেতা।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন নানা পাটেকর। পরে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘সালাম বম্বে!’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। অভিনয়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন