ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিলাল এরদোয়ান: গাজা ও পশ্চিম তীরে প্রতিদিন হামলা ও হত্যাকাণ্ড চলছে


বিলাল এরদোয়ান: গাজা ও পশ্চিম তীরে প্রতিদিন হামলা ও হত্যাকাণ্ড চলছে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রতিদিন হামলা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেও গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একইভাবে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

রোববার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বার্ষিক লন্ডন হালাল ফোরামের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তুরস্কের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান এসব কথা বলেন।

বিলাল এরদোয়ান মন্তব্য করেন, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী এবং মানবতার বিবেক নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে এই ফোরামে উপস্থিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছরে মানবতার সেই বিবেক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বকে গণহত্যার বিষয়ে জানাব এবং ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনেরা যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, বিশেষ করে গত তিন বছরে, তার পাশাপাশি ১৯৪৮ সাল থেকে চলা সংকটের বিষয়ে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করব।"

আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে পড়ায় চালকের কারণে বাস খাদে, নিহত ৮

তিনি আরও বলেন, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরেও গাজায় মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, প্রতিদিনই গণহত্যা ঘটছে। প্রতিদিন হামলা হচ্ছে এবং মানুষ নিহত হচ্ছে। শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও একই অবস্থা। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে যেসব সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব, সেগুলো কৌশলগতভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এর মাধ্যমে আরও কার্যকর ফল অর্জন করা সম্ভব হবে।

অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এসব পদক্ষেপের আওতা বাড়িয়ে ইসরাইলের সামগ্রিক পণ্যের বাণিজ্যেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ধ্বংসের ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ধ্বংসের ঝুঁকিতে

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা যদি বহাল থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও এর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়ে উঠবে না।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দুর্বল। যদিও নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তবুও আদালতকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ২০ মাসেরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার শক্তি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।

তবে এখনো পদক্ষেপ নেওয়ার সময় শেষ হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছাড়ের সময়টুকু নিষ্ফল আলোচনা চালানোর জন্য নয়, বরং আদালতকে রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞায় যেভাবে অচল হতে পারে আইসিসি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটিতে থাকা বা মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইসিসির সম্পদ ও অন্যান্য সম্পত্তিগত স্বার্থ জব্দ করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বা নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় না পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইসিসির সঙ্গে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মার্কিন ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসিসিকে পণ্য বা সেবা দিতে কিংবা আদালতের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না, যদি এতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের অনেক প্রতিষ্ঠানও সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে আইসিসিকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

যদি সরবরাহকারী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন ঘটনায় আইসিসির তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের কার্যক্রম অচল হয়ে যেতে পারে।

তবে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ১৮০ দিনের একটি ‘ছাড়ের সময়সীমা’ রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আইসিসির কিছু কার্যক্রম চালু রাখা অথবা সেগুলো গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর আওতায় রয়েছে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আদালতের অর্থপ্রাপ্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসাসেবা। আদালতের কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এসব সুবিধার পাশাপাশি বাড়িভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং নিয়মিত সেবার খরচ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পৃথক অনুমতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট টেলিযোগাযোগ, ক্লাউড ও সফটওয়্যার সেবা দেওয়া, আইসিসির পেনশনের অর্থ পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন বন্দীর কল্যাণে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওয়াশিংটন এই ছাড়ের সময়সীমাকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নিরসনে ‘কূটনৈতিক ও আইনি সমাধানে অর্থবহ অগ্রগতি’ দেখানোর সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু বাস্তবে এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করার একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার।

‘সংলাপের’ নামে আপসের সুযোগ নেই

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর আইসিসির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে অনেক সদস্যরাষ্ট্র। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। কিন্তু এখন শুধু বিবৃতি দিয়ে আদালতকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা এবং আইসিসির স্বাধীনতা রক্ষায় সুসংগত ও সমন্বিত কৌশল ছাড়া এসব সমর্থন অর্থহীন। বিবৃতি দিয়ে ব্যাংকগুলোকে আইসিসির হিসাব বন্ধ করা থেকে, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা প্রত্যাহার থেকে কিংবা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সেবা বন্ধ করা থেকে বিরত রাখা যাবে না। মার্কিন প্রতিশোধের ভয়ে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও আদালতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বারবার বলেছে, আইসিসি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের অন্যতম ভিত্তি। বাইরের চাপ থেকে আদালতের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। গত ১০ অক্টোবর ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস আবারও এ অবস্থান তুলে ধরেন। আদালত, এর কর্মকর্তা এবং আদালতের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে হামলা বা হুমকিকে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

কিন্তু এসব বক্তব্যের বাইরে ইইউ কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো ক্ষুব্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি বাড়ানোর আশঙ্কা থেকে তারা এমন অবস্থানে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্র ও ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই অপমানজনক ছাড়ের সময়সীমাকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘সংলাপের সুযোগ’ এবং ‘কূটনীতির পরিসর’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যই যদি আদালতকে ধ্বংস করা হয়, তাহলে অর্থবহ সমঝোতার সুযোগ কোথায়?

গত ২০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে আইসিসির বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়েছে। এখন সদস্যরাষ্ট্র ও ইইউ ভিন্ন ফল আশা করলে তা হবে আত্মপ্রবঞ্চনা। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য এবং আত্মমর্যাদার অভাব—দুটিই প্রকাশ পাবে। চাপ সৃষ্টিকারীদের তুষ্ট করার চেষ্টা তাদের আরো বেপরোয়া করে তোলে।

এ ধরনের চাপের মধ্যে সংলাপে বসলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ফিলিস্তিনে আইসিসির তদন্ত থেকে সরে আসার চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিয়ে, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করতে ফিলিস্তিনবিষয়ক তদন্ত বিসর্জন দিলে আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ধ্বংস হবে।

এতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়—এমন ধারণা আরও জোরালো হবে। আইসিসির দায়িত্ব এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় থাকা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আদালতের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই নীতির ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।

আইসিসি রক্ষায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক আগেই এসেছে। তবুও এখনো দেরি হয়ে যায়নি। সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে নীতিগত অবস্থান নিতে হবে এবং তাতে অটল থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈরী একটি সদস্যবহির্ভূত দেশের সঙ্গে নিষ্ফল সংলাপ চালানো, তাদের কাছে করুণা ভিক্ষা করা কিংবা নিজেদের ও আদালতের পক্ষে বহন করা অসম্ভব—এমন ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে আইসিসিকে রক্ষা এবং এর কার্যক্রম সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে প্রকাশ্যে আদালতের বাজেট বাড়ানোর অঙ্গীকার করতে হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আইসিসির প্রয়োজনীয় অর্থ, সম্পদ ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে আদালত, এর কর্মকর্তা এবং সহযোগীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে বাধ্য করার মতো পাল্টা আইন এবং আর্থিক ঝুঁকির অজুহাতে ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা প্রত্যাহার ঠেকানোর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আদালতের তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকেও একই সুরক্ষা দিতে হবে।

ইইউর উচিত অবিলম্বে তাদের ‘ব্লকিং স্ট্যাটিউট’ কার্যকর করা। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপ একাই সব সমস্যার সমাধান করবে না। তবে আইসিসিকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের কাছে ইইউর একাধিক সদস্যরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা এই আইন আইসিসিবিরোধী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের ওপর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও যাতে সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর থাকে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ পদক্ষেপ আর পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে বিকল্প ব্যাংকিং, অর্থ পরিশোধ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে আদালতের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এসব উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন বা সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে নিলে চলবে না। বরং রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি যুক্তরাষ্ট্রকে আইসিসি ধ্বংস করতে দেখে নীরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক আদালত, এমনকি কোনো জাতীয় আদালতের পক্ষেও ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিতর্ক

ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং ভারতীয় জনতা পার্টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে যে সুরক্ষা প্রদান করেছে এবং তাকে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের কাছে পৌঁছানোর অযোগ্য করে তুলেছে, তা দেশকে এক অসাধারণ সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য নতুন ধারণা ও সৃজনশীলতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যদিও এই অসাংবিধানিক সুরক্ষা জ্ঞানেশ কুমারকে আরও দুর্বল করে, তবে বিরোধী দলগুলোর জন্য এটি অধিক চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে, তা এই পটভূমিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোদি সরকারের বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করছেন? এটি প্রথমবারের মতো, নির্বাচন কমিশন বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে প্রটোকল বা শিষ্টাচারের অজুহাত দেখিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার তাদের নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠাতে বলেছেন এবং সাক্ষাতের জন্য একাধিক শর্ত আরোপ করেছেন। বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে তার এই অনীহা কমিশনকে মোদি-শাহ নেতৃত্বের অধীনে থাকা কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রমাণ করে।

যখন রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং বিরোধী দলনেতাসহ প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য রাস্তায় ছিলেন, তখন কমিশন পুলিশকে সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যাপারে দ্বিধা করেনি, যেন পুলিশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রধান অংশীদারদের মধ্যস্থতা করতে পারে।

এই মনোভাব নির্দেশ করে যে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটার বাদ দেওয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়; বরং কমিশন হিন্দুত্ববাদী শক্তির কর্তৃত্ববাদী লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে। মুসলিম, নারী এবং বঞ্চিত সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ইঙ্গিত দেয়, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর একটি প্রযুক্তি-ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তৈরির প্রচেষ্টা।

অনেকের ধারণা, মুসলিমদের বাদ দেওয়া কেবল বিজেপির নির্বাচনি হিসাবের অংশ নয়, বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের অত্যন্ত সরল বিশ্লেষণ। মূল উদ্দেশ্য হলো এই সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হালাল অর্থনীতি খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


হালাল অর্থনীতি খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেন্টারে অনুষ্ঠিত লন্ডন হালাল ফোরামের বার্ষিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে কার্যক্রম শুরু হয় ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নাশতার আয়োজনের মাধ্যমে। রোববার, অংশগ্রহণকারীদের সামনে ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী খাবার হুমুস, জা’তার, লাবনেহ ও ফালাফেল পরিবেশন করা হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।

‘মানবতার জন্য হালাল ও পবিত্র’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের ফোরামে হালাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের নেতারা বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ অর্থনীতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন, যা শুধু হালাল সনদ ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মিলিয়ে ওই আয়োজনে দেড় হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে লন্ডনের গুরুত্ব বাড়ার বিষয়টিও ওই আয়োজনের মাধ্যমে উঠে আসে। হালাল৩৬০-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ফোরামটি ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিডি) এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (এইচপিডিসি) যৌথ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে রয়েছে আনাদোলু।

এতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশের কথা স্মরণ করেন তুরস্কের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, আগামী বছরের ১ অক্টোবরও ফিলিস্তিনের মানুষের কথা স্মরণ করতে এবং তাদের প্রতি সংহতি জানাতে মানুষ রাস্তায় নামবে।

বিলাল এরদোয়ানের মতে, ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নাশতার এই আয়োজন এ ক্ষেত্রে করণীয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের উৎপাদক, বিনিয়োগকারী এবং নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপগুলোকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়। খাদ্য খাত থেকে এ উদ্যোগের সূচনা হতে পারে। পরে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজনকারী খাতেও তা সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের জন্য তুরস্ক তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিন ইস্যু রাজনৈতিক বিভাজন ও দলীয় সীমারেখার ঊর্ধ্বে।

ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তার দেশটিতে যেতে না পারার বিষয়ে গণমাধ্যমের খবর নিয়েও কথা বলেন বিলাল এরদোয়ান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব বেশি দেরি না করে একদিন আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শন করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, আমরা সবাই একদিন আল-কুদসে শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে একত্র হতে পারব এবং সেখানে বৈঠক করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত বলেন, গাজায় গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন অব্যাহত রয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল অর্থনৈতিক যুদ্ধও চালাচ্ছে, যা কয়েক দশক ধরে অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুলুহ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার এবং আইসিসিডির মহাসচিব ইউসুফ খালাভি। এতে লন্ডনে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরাই এরতাসও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি জাদুঘরের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরা এবং সেগুলোর বর্ণনা সমৃদ্ধ করাই এ জাদুঘরের লক্ষ্য। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লন্ডনের এক্সেল কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো লন্ডন হালাল ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অপরিহার্য: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অপরিহার্য: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনার দ্রুত তদন্ত করা আবশ্যক, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

সোমবার বেলা ১১ টার দিকে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সকল ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি।’

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘শিশুবিয়ে রোধে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন যাচাই এবং কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর সরকার গুরুত্বারোপ করছে।’

কুমিল্লার শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তবে কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছি। সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কুমিল্লার মেয়েটি তিনদিন ধরে বাসায় নেই, অথচ অভিভাবকদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি।’

দেশের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন, ‘যখন স্কুলের পাশে মায়েরা পেপার বিছিয়ে বসে সন্তানকে বাসায় নিতে অপেক্ষা করেন, তখনই বোঝা যায়, সমাজ কতটা অনিরাপদ।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%