প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল করার উদ্দেশ্যে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের পথ অনুসন্ধান করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি নাগরিকত্ব কীভাবে অর্জন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
বুধবার, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, এই তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের পরীক্ষা চলছে। এছাড়া, মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তার কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এক ডজনের বেশি সমন পাঠানো হয়েছে। তবে ইলহানের কার্যালয় এই তদন্তকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান। তার কার্যালয় এই অভিযানকে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ তল্লাশি পরিচালিত হয়। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই নির্বাচনে লড়াই করছে। ইলহান মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, চলমান একটি কেন্দ্রীয় তদন্তের অংশ হিসেবে তল্লাশি পরিচালিত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মকর্তারা ইলহানের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও নোটবুক জব্দ করেন।
ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে তিনি নাগরিকত্ব অর্জন করেন। এর আগে তিনি অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ইলহান ও তার প্রয়াত বাবার বিরুদ্ধে বয়স সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলহানের বাবা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় অভিবাসন নথিতে তার বয়স ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৭ বছর দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, বয়স কম দেখানোর কারণে ইলহান তার বাবার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তবে তাকে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হতো না।
ইলহানের বাবা ২০২০ সালে মারা যান। ফলে বয়স নিয়ে ইলহান নিজে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, নাকি তার বাবা তার হয়ে তা করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ জটিল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিবাসন বিষয়ক এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য মামলার ভিত্তি নির্ভর করতে পারে ইলহান নিজের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলেন কি না, তার ওপর।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিলেন। তবে জালিয়াতির প্রমাণ না থাকায় তখন তারা আর এগোননি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইলহানের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে কেউ মামলা করেছেন—এমন তথ্য তারা পায়নি। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া চালাতে হবে। শুধু তদন্তের কারণে তার নাগরিকত্ব বাতিল হয় না বা তাকে বহিষ্কারের অনুমতিও তৈরি হয় না।
এ ছাড়া, সম্পদ সংক্রান্ত ঘোষণায় নিজের সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখানোর অভিযোগে আগে একটি নির্দলীয় কংগ্রেসনাল নজরদারি সংস্থা ইলহানকে দায়মুক্তি দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অধীন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে ইলহানের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সোমবার সকালে তার বাড়ির আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেন কর্মকর্তারা। পরে ‘জব্দ করা সম্পত্তির প্রমাণ’ লেখা বাক্স সরিয়ে নিতে দেখা যায় তাদের।
প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত ইলহান ওমরকে তার সোমালি পরিচয় ও অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে বহু বছর ধরে ট্রাম্প ও তার মিত্রদের সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে।
সোমবারের অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তল্লাশির সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’।
তার ভাষায়, বিষয়টি ‘মূলত বিচার বিভাগের’ এখতিয়ার।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন