০৫:১৭ পি.এম
বরিশালের সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে পুলিশ কর্তৃক আটক করা হয়েছে এক জামায়াত সমর্থক। তাকে আটক করার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার রাতে, ৩ আগস্ট, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রাম থেকে এই আটককার্য সম্পাদিত হয়।
আটক করা হয়েছে সুজন আকনকে। তিনি একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেই গৃহবধূর স্বামী প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে তিনি চানপুর মোল্লা স্টেশন এলাকায় বিয়ে করেছিলেন। তাদের একটি সন্তান জন্মের পাঁচ দিন পর মারা যায়। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি পুনরায় প্রবাসে চলে যান।
জানা যায়, সোমবার রাতে ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে সন্দিহানে পড়ে। পরে কক্ষে ঢুকে তারা ওই নারী ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা মিলিত হয়ে দুজনকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
মিগ্রাঠিগতভাবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরদিন, ৪ আগস্ট, তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাতে আলোচনা-সমালোচনার সঞ্চার হয়।
গৃহবধূর জা বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে তাদের হাতেনাতে শোবার ঘর থেকে আটক করেছি। এর আগে একবার সুজন ধরা পড়েছিল। তখন সে স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছিল, 'আর এমন কাজ করব না।' কিন্তু সে কথা রাখেনি। আমরা বিচার চাই।
আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার
গৃহবধূর ভাসুর বলেন, ছেলেটি বিবাহিত, তার দুটি সন্তান রয়েছে। তবুও সে আমাদের মানসম্মান নষ্ট করেছে।
গৃহবধূর ভাসুরের ছেলে জানান, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে তাদের বাড়িতে একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর থেকে তার কাকির সঙ্গে সুজনের পরিচয় হয় এবং এরপর ফেসবুকে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রবাসী স্বামী দেশের বাইরে থাকাকালীন সুযোগ গ্রহণ করে ওই নারী ও সুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শ্বশুরবাড়ির চাপে গৃহবধূর ফোন বন্ধ থাকায় সুজন তাকে নতুন মোবাইল কিনে দেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওই গৃহবধূ জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। সুজন তার বাসায় একাধিকবার এসেছে এবং তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল।
আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত
তবে সুজন আকন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা সম্পর্কে দেবর-ভাবী। তিনি আমাকে মোবাইলে ডেকে নিয়েছিলেন। যারা ধরেছেন, তারা আগেই এখানে অপেক্ষমাণ ছিল।"
সুজন আরও বলেন, "আমি কোনো খারাপ কাজ করিনি। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।"
এদিকে, সুজন আকনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবি করেন, কিন্তু দলটির স্থানীয় নেতৃত্ব তা অস্বীকার করেছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য শহীদ হোসেন বলেছেন, "সুজন আকন আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়া করেন। তবে পদে আছে কি না জানি না।"
আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত
সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. সেলিম শিকদার জানান, "সুজন সংগঠনের কেউ নন। কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা মানেই সংগঠনের নেতা বা কর্মী হওয়া নয়।"
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একই কক্ষে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার পর গৃহবধূ সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে এজাহার দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন