প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাব দাবি করেছে, জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত। সংগঠনটির বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেল ক্রেতার অর্থ, জমির মালিকানা, ফ্ল্যাটের আইনগত অধিকার এবং ভবনের নিরাপত্তাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ইতোমধ্যে, এই ধরনের ব্যবসায়িক মডেলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রোববার, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল এসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আবাসন খাতে উদ্বেগজনকভাবে একটি ব্যবসায়িক মডেল শুরু হয়েছে, যেখানে জমির নির্দিষ্ট অংশ বিক্রি করে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে ক্রেতা অর্থ বিনিয়োগ করেও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট না পাওয়ার, বৈধ মালিকানা বুঝে না পাওয়ার কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না পাওয়ার সমস্যায় পড়ছেন।
রিহ্যাবের সভাপতি আরও বলেন, তারা বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন না। তবে যৌথ উদ্যোগের নামে এ ধরনের ব্যবসা চলতে দেওয়া যায় না, যেখানে অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের অধিকার, বৈধ মালিকানা, নির্মাণের দায় এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের নিশ্চয়তা নেই, রাজস্ব পরিশোধ ও আইন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলোকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও কারিগরি যাচাই করা জরুরি। প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, নকশা, নির্মাণবিধি, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, কর ও ভ্যাটসহ সব ধরনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। কিন্তু শেয়ারভিত্তিক প্রকল্পে তদারকি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
রিহ্যাব জানিয়েছে, জমির মালিকানা, শেয়ার বিক্রি, ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নির্মাণ ব্যয় ও দখল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। অবিভক্ত অংশের মালিকানা থাকলে ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন এবং পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে শেয়ারভিত্তিক প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা আটকে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্প-সংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাবের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্তের নামে তিন মাস ধরে সংগঠন হিসেবে রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের প্রতি রিহ্যাবের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে তদন্তের অজুহাতে সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু সে কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন