প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : তৃতীয় কোনো আফ্রিকান দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের নির্বাসনের নীতি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ নীতি মানবিক দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
লিব্রেভিল থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে পুনরায় ফিরে আসার পর তার প্রশাসন ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে চুক্তি করে। এই চুক্তির আওতায়, যেসব বিদেশিদের নিজ দেশে আইনগতভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়, সেসব ব্যক্তিদের গ্রহণে দেশগুলো সম্মত হয়।
এইচআরডব্লিউ-এর উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) থেকে জানা যায়, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ কনসোর্টিয়ামের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, এ নীতি ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং মানবিক দুর্ভোগকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাটি একটি মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যও তুলে ধরেছে। নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তা এক সিনেট শুনানিতে বলেন, ‘পালাউ বা ইসওয়াতিনির মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, প্রশাসন মানুষকে হুমকি দিতে পারে যে তাদের আক্ষরিক অর্থেই কোথাও মাঝখানে ফেলে দেওয়া হবে। মানুষকে ভয় দেখানোই উদ্দেশ্য।’
এইচআরডব্লিউ জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার ছয়টি দেশে পাঠানো ২৪ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। দেশগুলো হলো—ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদান।
তারা জানায়, ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এমন ফ্লাইটে তাদের শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
২০২৬ সালের শুরুতে এএফপির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, আফ্রিকার দেশগুলোকে বহিষ্কৃতদের গ্রহণে রাজি করাতে ওয়াশিংটন চাপ প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি, ভিসা প্রদান স্থগিত করা এবং সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের হুমকিও ছিল।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বুরুন্ডি চলতি মাসের শুরুতে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃতদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি এমন চুক্তি করা ১৫তম আফ্রিকান রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন