প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিল সামিয়া নূর (১৫), কিন্তু ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু ঘটে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (পিজি হাসপাতাল) আটতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
নিহত সামিয়া গাজীপুরের কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে গাজীপুরের বোর্ডবাজারের সাইনবোর্ডসংলগ্ন কলমেশ্বর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা নুরুন্নবী স্থানীয় বাজারে একটি কনফেকশনারির দোকান পরিচালনা করেন।
হাসপাতাল ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সামিয়ার মা পারুল আক্তার (৪৫) জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য পাঁচ-ছয় দিন আগে পিজি হাসপাতালের আটতলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। আগামী ২৮ তারিখ তার অস্ত্রোপচারের কথা ছিল।
সামিয়ার বাবা নুরুন্নবী সাংবাদিকদের জানান, বাইরে থেকে ফিরে সামিয়া মাকে বলেছিল, ‘মা, ক্ষুধা লেগেছে, ভাত দাও।’ ভাত খাওয়ার পর বিছানা থেকে কিছুটা দূরে কোমরসমান উঁচু জানালার মতো একটি জায়গায় গিয়ে বসে সে। তখন তার মা বিছানার নিচে বসে ভাত খাচ্ছিলেন।
নুরুন্নবী বলেন, ওই জায়গায় বসে নিচের দিকে তাকানোর সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায় সামিয়া। এতে তার ঘাড় ও একটি হাত ভেঙে যায়। কান দিয়েও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত বাবা বলেন, ‘আমি নিঃসন্তান ছিলাম। মাত্র তিন বছর বয়সে কলিজার টুকরা মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলাম। কত আদর করে তাকে মানুষ করেছি! আজ আমি সব হারালাম। এখন আমরা কী নিয়ে বাঁচব?’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সামিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন